Published : 03 May 2026, 07:46 PM
পরীক্ষা নেওয়ার জন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় আলাদা কেন্দ্র করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়–সংক্রান্ত সেশন শেষে রোববার বিকালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ডিসিরা মাঠ পর্যায়ের সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের খেলাধুলার মাঠ নেই, তারপরে এক্সামিনেশন হল নেই। আমরা তো এবার প্রজেক্ট নিয়েছি প্রত্যেকটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল করব।
“ছাত্রছাত্রীদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে সেগুলোর কথা বলব। আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রচুর প্রবলেম রয়েছে। প্রতিটি প্রবলেম তারা (ডিসিরা) অ্যাড্রেস করেছেন। বাট এটার বিউটি হল তারা একদম মাঠ থেকে যেটা দেখেছেন, সেটাই অ্যাড্রেস করেছেন।"
আলাদা কেন্দ্র না থাকায় পাবলিক পরীক্ষার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব শ্রেণির ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। তাতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয় বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
সেই জটিলতা মেটাতেই এবার মাল্টিপারপাস পরীক্ষাকেন্দ্র করার বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, ডিসি সম্মেলনে নির্ধারিত সেশনে মাঠ পর্যায়ের নানা সমস্যার কথা এবং সেখান থেকে উত্তরণে নানা পরিকল্পনা ও সুপারিশ উঠে এসেছে।
"উনারা প্ল্যান দিয়েছেন, জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য গার্ডিয়ান এবং স্টুডেন্ট এক্সামিনার সকলেই অস্থির হয়ে থাকে; এখান থেকে বেরিয়ে আসা যায় কি না? ক্লাসরুমে হোয়াইট বোর্ড দেওয়া হয়েছে, দুই ফিট বাই তিন ফিট। একটি কলমের দাম ৬০ টাকা, যেখানে ২০ টাকায় এক বক্স চক পাওয়া যেত। এই ৬০ টাকা সেইভ করার জন্য অনেকেই ক্লাসরুমে তেমন অ্যাড্রেস করে না। তাহলে কি আমরা ব্ল্যাকবোর্ডে যেতে পারি না? ডিপেন্ডস।
"কখনো আমরা পেছনে যাচ্ছি, কখনো আমরা সামনে যাচ্ছি; ডিপেন্ডস। উনারা যা দেখছেন তাই আমাদেরকে বলেছেন।"
ডিসিরা শিক্ষাকে অনন্দঘন করার সুপারিশ করেছেন বলে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "উনারা বলেছেন যে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চায় না, তারা আনন্দঘন স্কুল চায়। যেটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের এজেন্ডার মধ্যে রেখেছেন।"
কওমি মাদ্রাসার জন্য নীতিমালা করার সুপারিশ
এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ডিসিরা কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য নীতিমালা করার সুপারিশ করেছেন।
“কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধির সাথে আমরা বসেছি এবং তাদের সমমান ডিগ্রি যেটা হয়, সেটা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। তারা তাদের প্রস্তাব দেবে যে কোন লেভেল হচ্ছে এসএসসি, কোন লেভেল ইন্টারমিডিয়েট, কোন লেভেল ডিগ্রি এবং কোন লেভেল দাওরা। এ বিষয়ে তাদের সাথে আমাদের কথা হয়ে গেছে। তিন দফা আমি মিটিং করেছি।
"ওই লেভেলগুলোকে আমাদের ঠিক করতে হবে। তাদের বোর্ডকে আরও... করতে হবে। তাদের মধ্যে আমাদের কিছু কিছু জায়গায় টেকনিক্যাল এডুকেশন দিতে হবে। তারা যা চায় সেটা আমরা করতে রেডি। আমরা চাই না তারা আলাদা থাকুক।"
৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ
এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিগগিরই ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, "আমাদের প্রথমত হল প্রাথমিকে সাড়ে ৩২ হাজার হেডমাস্টার নিয়োগ মামলার কারণে আটকে আছে। আমাদের এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অপর দিকে প্রাথমিকে বিগত সরকারের সময়ে তরিঘড়ি ১৪ হাজার ৩০০ নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেটাকেও আমরা ডিসিপ্লিনে নিয়ে আসতেছি। সেটাকে আমরা আস্তে আস্তে নেব। এরপরেই আবার ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। ৭ হাজার নিয়োগ দিতে হবে আমাদের সরকারি হাই স্কুলগুলোতে।
"হিউজ নাম্বার। আমরা পিএসসির আশায় ছিলাম (সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের জন্য)। পিএসসি আমাদেরকে যদি না দিতে পারে তাহলে আমরা ডিসিশন নেব যে আমরা স্পেশাল কোনো পরীক্ষা নিতে পারি কি না। কারণ আমরা তো শিক্ষক ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারব না। এটাতো আমরা সকলেই বুঝি। আর এদিকে তো আমাদের বাজেটে তো কোনো ঘাটতি নেই।”
মন্ত্রী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বাজেট বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন আমাদের তো সেইভাবে প্রজেক্ট তৈরি করতে হবে। সেইভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে শিক্ষায় কাজ করার।"