এপ্রিলে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলেন তিনি।
Published : 02 Apr 2025, 08:35 PM
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অনেক প্রমাণ পাওয়ার কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুানালের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম বলেন, বহুবার যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব হবে।
‘অকাট্য’ প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে প্রমাণগুলো ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো সফলভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন বলেও মনে করছেন।
বুধবার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান কৌঁসুলি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘‘প্রধান আসামী শেখ হাসিনা এবং তার সাথে (সাবেক) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের (সাবেক) প্রধান আবদুল্লাহ আল মামুন এদের তদন্ত রিপোর্ট অলমোস্ট ডান। এই মাসের প্রথমার্ধে তার রিপোর্টগুলো আমরা পেয়ে যাব।
‘‘তাদের রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই আমরা ফরমাল চার্জ দাখিলের প্রক্রিয়ার মধ্যে চলে যাব।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ‘গণহত্যার’ অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। ‘কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির’ এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে বলে ঈদের আগেও জানিয়েছিলেন তাজুল ইসলাম।
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ এপ্রিল পর্যন্ত তদন্ত সংস্থাকে সময় দেয় ট্রাইব্যুনাল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের চেষ্টা ও গণহত্যার অভিযোগে হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গত ১৭ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার প্রধান কৌঁসুলি তাজুল বলেন, ‘‘তাদের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অকাট্য সাক্ষ্য প্রমাণ, এভিডেন্স যা কিছু আছে সেটা দিয়ে বহুবার তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব এবং সেটা আমরা কোর্টরুমে করে দেখাব ইনশাল্লাহ।
‘‘আমাদের সাক্ষ্য প্রমাণগুলো অকাট্য প্রত্যক্ষদর্শী, ভিক্টিম যারা একদম ময়দানে থেকে সম্মুখসারিতে লড়াই করেছেন তারা আদালতে এসে সাক্ষ্য দেবেন। সুতরাং এই সাক্ষ্য হবে এতটাই অকাট্য যে এখান থেকে কাউকে বেড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ আইনের মধ্যে আর থাকবে না। আমরা খুব সাসেক্সফুলি তাদের বিরুদ্ধে অপরাধগুলো প্রমাণ করতে পারব।”
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন ঈদের পর: প্রধান কৌঁসুলি
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এবার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা
সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরে এক দফার সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। প্রবল জনরোষের মুখে ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। সেই থেকে সেখানেই আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
ওইসময় ১৬ জুলাই থেকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে সারাদেশে ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অর্ধ শতাধিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন অফিসে জমা পড়েছে।
পাশাপাশি শেখ হাসিনার সময়ে গুমের অভিযোগেও একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে ট্রাইব্যুনালে।
এগুলোর মধ্যে ‘গণহত্যা’, ‘গুম’ এবং শাপলা চত্বরে ‘গণহত্যার’ তিন মামলা হলে সেগুলোতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানালেও ভারত তাতে সাড়া দেয়নি।
এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলার মধ্যে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানো এবং চাঁনখারপুলে সাতজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরেক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। সেগুলোর প্রতিবেদনও প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসে এ দুটি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে কৌঁসুলীরা বলেছেন।