যতো প্রতাপশালীই হোক, অপরাধীকে ছাড় নয়: জাহাঙ্গীর
“আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে। আরো উন্নতি করার জায়গা রয়ে গেছে," বলেন তিনি।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতাপশালী ব্যক্তিকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “ক্রিমিনাল যেই হোক তাকে কোনো অবস্থায় ছাড় দেওয়া হবে না, যত বড় প্রতাপশালী হোক না কেন, যেকোনো দলেরই হোক না কেন- কোনো ছাড় নয়।"
বুধবার সকালে সচিবালয়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে উন্নতি করা যায় তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
“আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে। আরো উন্নতি করার জায়গা রয়ে গেছে।"
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের পরিস্থিতি এখন ‘মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে’ এসেছে বলে দাবি করেন জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, “যেভাবে সহনীয় পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে- অন্যান্য এলাকায় সেই মডেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।"
৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনই হামলা চালানো হয় থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায়। হামলা হওয়া থানাগুলোতে ধ্বংস হয়ে যায় মামলার নথি, আলামতসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবকিছু।
এরপর পুলিশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে সংস্কারের উদ্যোগের মধ্যে ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতি করাসহ শুরু হয় ঢালাও বদলি। বিশেষ করে ঢাকার শীর্ষ পদ থেকে শুরু করে একেবারে কনস্টেবল সদস্যদের বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অন্যদিকে ডিএমপিতে যারা বদলি হয়ে এসেছেন, তাদের কাছে ঢাকার বাস্তবতা বুঝতে আর অলিগলি চিনতে বেগ পেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর বলেন, “এদের একটু সময় দিতে হবে- সোর্স প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ দিতে হবে।"
ঢাকার সড়কে দোকান বসায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায় জানিয়ে তিনি বলেন, “রাস্তার ভিতর অনেক দোকান আছে, সেগুলোকে আপাতত এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া দরকার।
“তবে একটি দোকান সরিয়ে দিলে আরেকটি দোকান তাৎক্ষণিকভাবে বসে- এ বিষয়টি কীভাবে এড়ানো যায়, সে ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
বৈঠকে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
