Published : 03 Nov 2025, 02:28 PM
বিএনপি সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিবের দায়িত্ব পালন করা কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেছেন, “ড. কামাল সিদ্দিকী ছিলেন প্রশাসন, উন্নয়নচিন্তা ও একাডেমিক গবেষণার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন একজন সৎ, দূরদর্শী ও নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মকর্তা, যিনি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের জন্য কাজ করেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক ও নীতিনির্ধারক হিসেবে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
কামাল সিদ্দিকীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থাকার কথা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা প্রায়ই দেশের ভবিষ্যৎ, প্রশাসনিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করতাম। তিনি ছিলেন নীতিবান, বিনয়ী ও দেশপ্রেমিক এক মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে আমি একজন প্রিয় বন্ধু ও প্রজ্ঞাবান সহযাত্রীকে হারালাম।”
সোমবার ভোরে গুলশানের বাসায় কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর মৃত্যু হয়। এদিন বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
১৯৫৪ সালে জন্ম নেওয়া কামাল সিদ্দিকী ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় দুর্নীতির এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কামাল সিদ্দিকীকেও অভিযুক্ত করা হয়।
কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে ‘অস্বচ্ছ’ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে সেই মামলা করেছিল দুদক।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চলতি বছরের শুরুতে খালেদা জিয়াসহ ওই মামলার আট আসামির সবাইকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “দেশের বৈরী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির কারণে তাকে বহুবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে। অন্যায়ভাবে একাধিক মামলার হয়রানি তাকে সহ্য করতে হয়েছে—যা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক।
“তবুও তিনি কখনও তার মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম থেকে সরে আসেননি।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ড. সিদ্দিকী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন কিংবদন্তি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি যে নিষ্ঠা, সততা এবং দক্ষতার সঙ্গে সারা জীবন দায়িত্ব পালন করেছেন, তা বাংলাদেশের সকল সরকারি কর্মকর্তার জন্য অবশ্য অনুসরণীয়।
“এটা ভাবতে অবাক লাগে যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নশাস্ত্রে বিএসসি এবং এমএসসি পাস করেছেন, কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন। তার জ্ঞানস্পৃহা ছিল অদম্য।”