Published : 28 Aug 2025, 09:50 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপে ‘পরিস্থিতি বুঝে নতুন কিছু’ যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।
ভোট সামনে রেখে প্রতিটি বিষয়ই ‘চ্যালেঞ্জের’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এগুলো সামাল দেওয়ার মতো দৃঢ়তা রয়েছে বর্তমান ইসির।
আর এখনকার আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি সরকারের হলেও প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সহযোগিতা নেওয়া হবে, বলেছেন সে কথাও।
সচিব বলেন, সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলের পরামর্শ থাকলে কর্মপরিকল্পনায় তা যুক্ত করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন আখতার আহমেদ রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। আগের দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন এ রোডম্যাপে অনুমোদন দেয়।
দুই ডজন কাজের পরিকল্পনার মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের কথাও রয়েছে।
রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সংসদ নির্বাচন হবে। ভোটের দিনের প্রায় দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
‘প্রতিটি বিষয়ই চালেঞ্জের’
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আমরা কর্মপরিকল্পনা দিলাম, আর সব কিছু হয়ে গেল, তা তো নয়, এটা চলমান থাকবে। এর সঙ্গে সংযোজন হবে। নতুন নতুন পরিস্থিতিতে নতুন নতুন কাজ আসে, এগুলো একসঙ্গে সম্পূরক কাজ হিসেবে নেব।”
কর্মপরিকল্পনার ভেতর-বাইরে কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, “প্রতিটি জিনিসই চ্যালেঞ্জের। আগামীতে আমার জীবনে দুর্ঘটনা ঘটবে না, এটা কি আমি জানি? সুতরাং, প্রত্যেকটি জিনসেই চালেঞ্জের। প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানুষের প্রস্ততি থাকতে হবে, এটাই দৃঢ়তা। এটাই আমরা চাই।
“না জেনে বাতাসের সঙ্গে সঙ্গে তলোয়ার চালানো যায় না। চ্যালেঞ্জ আসবে, পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তার জন্য মানসিকভাবে যে দৃঢ়তা থাকা দরকার, আপনার-আমাদের সবার রয়েছে।”
বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এর সঙ্গে ইসিকে এখন ‘রিলেট’ করার বিষয় হিসেবে দেখতে চান না ইসি সচিব।
বিরাজমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, “কেন থাকবে না। এখনকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আমাদের বিষয়টা হচ্ছে নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রমের ব্যাপার।
“স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে যখন যেখানে যতটুকু প্রয়োজন হবে, আমরা করব। ভবিষ্যত দ্রষ্টা আমরা নই। ভবিষ্যতে যেটা আসবে, সেটা সামাল দেওয়ার জন্য যা করার, আমরা করব।”
এয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখাতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি কর্মপরিকল্পনাতেও রয়েছে।
সিসি ক্যামেরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়
ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বা ‘বডি ক্যাম’ ব্যবহারের বিষয়টিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার বলে মনে করেন ইসি সচিব।
তিনি বলেন, “সিসি ক্যামেরা, ‘বডি ক্যামের’ বিষয়টা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার; এটা আমাদের ব্যাপার নয়। এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে। এটাতে আমাদের অংশগ্রহণের বিষয় থাকলে সেটা কতটুকু, তা আলোচনাসাপেক্ষ।”
দলগুলোর মতামতও বিবেচনায় থাকবে
রোডম্যাপে রাজনৈতিক দল সন্তুষ্ট হবে কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, “এটা আমাদের কর্মপরিকল্পনা। রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে যখন আলোচনা হবে, তখন মতামত থাকলে আমাদের জানাবেন। এটা সংযোজন হতে পারে।”
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হবে, এর আগে সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে ফেলছে ইসি।
দলের সঙ্গে সংলাপ পরে করাটা উল্টো (দলের মতামত উপেক্ষা) হয়ে যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, “এ কথার সঙ্গে একমত নই। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপ পরবর্তী কোথাও যদি সংশোধনের প্রয়োজন হয়, আমরা বলেছি কর্মপরিকল্পনায় সংযোজন হবে; সে ক্ষেত্রে আমরা সেভাবে এডজাস্ট করব। কতটুকু লাগবে তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।”
এআই অপপ্রচার রোধ চ্যালেঞ্জ
ইসি সচিব বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার, অপপ্রচার, মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন রোধ একটা চ্যালেঞ্জ।
“এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়ে আমরা এটাকে এডজাস্ট করব। আমরা কি আমাদের সব কিছু সামাল দিতে পারব? চেষ্টা করব যেন সব কিছু সামাল দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। সবার সহযোগিতা লাগবে।”
ভোটার উপস্থিতিও ভাবনায়
ভোট দিতে কমিশনের সব উদ্যোগের পরও কোনোভাবে যদি কেউ উৎসাহিত না হন-সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন ইসি সচিব।
রোডম্যাপ ঘোষণা: সংলাপ ও পোস্টাল ভোট নিয়ে যত পরিকল্পনা ইসির
“আপনাকে আমরা উদ্বুদ্ধ করতে পারি, সেটা বাস্তবায়ন করবেন, কিনা সেটা আপনার ব্যাপার। আমরা সব সময় বলছি, এমন একটা উৎসবমুখর পরিবেশ আনতে চাই, যেখানে মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে আসবেন (কেন্দ্রে)। আর কী করলে ভালো হয়, সে পরামর্শ দিন।”
পার্বত্য এলাকায় হেলিকপ্টার
ভোটার তালিকা থেকে ভোটের ফল প্রকাশ পর্যন্ত দুই শতাধিক কাজের ফর্দ তুলে ধরা হয় ইসির রোডম্যাপে।
আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী কাজে সশস্ত্রবাহিনীর সহায়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সচিব বলেন, ভোটের ৮-১০ দিন আগে স্বচ্ছ ব্যালট পেপারসহ আনুষঙ্গিক সামগ্রী আনা-নেওয়ায় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার সরবরাহের বিষয়ে যোগাযোগ করা হবে।
গণভোট কিংবা গণপরিষদ নির্বাচনের মতো দাবির বিষয়ে ইসির কোনো এখতিয়ার নেই বলেও মন্তব্য করেন সচিব।