Published : 30 Jun 2026, 12:02 AM
একাত্তরে ভারত সরকার ও দেশটির সাধারণ মানুষের ‘অসামান্য’ সহায়তা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু জুলিয়ান ফ্রান্সিস।
একাত্তরের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছেন, “তাদের (ভারত) সহায়তা ছিল অসামান্য। যুদ্ধে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর অনেক সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।
“ভারত সরকার যেভাবে সহায়তা করেছিল, সেটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সিস বলেন, “১৯৭১ সালের অনেক স্মৃতি মনে পড়ে।
“তখন অক্সফ্যাম ভারতের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ছয় লাখ বাংলাদেশি শরণার্থীর দেখভাল করেছিল। চারদিকে দুর্ভোগ আর মৃত্যু, সব মিলিয়ে তখনকার পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবে মানুষের মধ্যে অনেক আশা ও প্রতিরোধের অদম্য শক্তিও ছিল।”
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা তুলে ধরতে গিয়ে জলপাইগুড়ির একটি ঘটনা স্মরণ করেন এই ব্রিটিশ নাগরিক।
তিনি বলেন, “সেখানে একজন এসে বললেন, ‘হিন্দুরা এখানে থাকে, আর মুসলমানরা ওখানে থাকে।’
“তখন প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘মাফ করবেন, আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম একসঙ্গে বসবাস করেছি, একসঙ্গেই থাকব এবং একসঙ্গেই দেশে ফিরব’।”
সেদিনের ঘটনাটি ‘সত্যিই অসাধারণ’ ছিল বলে মন্তব্য করেন অক্সফ্যামের সাবেক এই কর্মী।
তিনি বলেন, “ওই সময় শরণার্থীদের মধ্যে গভীর হতাশা ছিল। তখন একজন চিকিৎসক বললেন, ‘একটি হারমোনিয়াম আর একটি তবলা নিয়ে আসুন।’
“এরপর আমি ১০০ সেট হারমোনিয়াম ও তবলা এনে দিয়েছিলাম। শরণার্থীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ বিভিন্ন শিল্পীর গান গাইত। এই গানের মধ্য দিয়ে তারা হতাশা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন।”
যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল, ফ্রান্সিস তখন ২৫ বছরের তরুণ। অক্সফামের হয়ে কাজ করেছিলেন ভারতের বিহারে। লাখ লাখ বাংলাদেশি শরণার্থীর ভারতে আশ্রয় নেওয়ার খবরে ছুটে যান সীমান্তে।
রিলিফ কোঅর্ডিনেটর হিসেবে শরণার্থী শিবিরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা তার হয়েছিল, মনে তার প্রভাব স্থায়ী হয়ে গেছে।
এরপর কখন যেন বাংলাদেশকে ভালোবেসে ফেললেন; জীবনের এক তৃতীয়াংশ কাটিয়ে দিলেন এখানেই। এ দেশে থিতু হলেন, নাগরিকত্ব নিয়ে হয়ে উঠলেন পুরোদস্তুর বাংলাদেশি।