Published : 27 Sep 2025, 08:11 PM
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানোর পাশাপাশি সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্বনেতারা।
শুক্রবার নিউ ইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার হোটেল স্যুইটে লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ‘নিজামি গঞ্জাভি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র’ এর (এনজিআইসি) সহ-সভাপতি ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবারগার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন বলে বাসস জানিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্ব, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের প্রশংসা করে বলেন, তারা প্রধান উপদেষ্টাকে ও বাংলাদেশের জনগণকে সমর্থন জানাতে এসেছেন। তারা ইউনূসের পাশে রয়েছেন।
নেতারা বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সম্প্রতি বিশাল অগ্রগতি হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৬ বছরের দুর্নীতি, শোষণ ও কু-শাসনের কারণে বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
নেতাদের কেউ কেউ ভিন্ন নেতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেশ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
বাসস লিখেছে, নেতাদের একজন বলেন, ‘আমরা আপনার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। যে কোনো পরামর্শ বা সহায়তা প্রয়োজন হলে জানাবেন’।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন, স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরুত পাহোর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেভনেলিভ ও পেতার স্তোইয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো যোসিপোভিচ, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্লাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।
কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জর্জিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চারজন সাবেক সভাপতি, একাধিক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি ও এনজিআইসির সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, মানবাধিকার সংগঠন রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা কেরি কেনেডি দেশের মানবাধিকার অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, ‘মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আপনাদের অর্জন অসাধারণ।’
জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভিয়ার বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান শিগগিরই বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করবে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের যেকোনো প্রয়োজেনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এনজিআইসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সেরাগেলদিন।
পূর্ণ সমর্থন পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আমাদের সমর্থনে আপনাদের একসঙ্গে দাঁড়ানো সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি একেবারেই মুগ্ধ।”
আগের সরকারের সময়কে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা’ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “দেশটি গত ১৬ বছর ধরে একটি ভূমিকম্পের মধ্যে ছিল। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৯।”
বাংলাদেশ সরকারপ্রধান বলেন, “সীমিত সম্পদের কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষ তাৎক্ষণিক পরিবর্তন দেখতে চায়। কিন্তু আমাদের অবশ্যই তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। তারা একটি নতুন বাংলাদেশ খুঁজছে।”
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। আপনাদের পরামর্শ, সহযোগিতা ও নৈতিক শক্তি আমাদের জন্য অমূল্য।”
সভায় এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।