Published : 30 Nov 2025, 07:57 PM
সংবাদমাধ্যমে আসা তথ্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে চলতি বছরের ১১ মাসে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে ২৮ বাংলাদেশির নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র।
সংস্থাটির ভাষ্য, “সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের ধারাবাহিকভাবে নিহত হওয়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক, অমানবিক এবং চরম নিন্দনীয়।”
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বহু বছরের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক এবং আশ্বাসের পরও সীমান্তে প্রাণহানির এ প্রবণতা অব্যাহত থাকা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও আস্থার সম্পর্কের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক সীমান্তে বাংলাদেশিদের নিহত হওয়ার ঘটনায় তাদের এমন অবস্থান তুলে ধরে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসক বলেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত কমপক্ষে ২৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি সীমান্তের এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলেছে।
একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার পরিহার করে মানবিকতা, সংযম এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার মাধ্যমে দুই দেশের যৌথ প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া জরুরি বলে বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে আসক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আসক দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী গুলি চালানো কোনোভাবেই যৌক্তিক বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ন্যায়নীতি এবং দুই দেশের পূর্ববর্তী অঙ্গীকার বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
“সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ এবং ভারতের সমান দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্ব পালনে যেকোনো ধরনের ব্যত্যয় অত্যন্ত হতাশাজনক।”
সীমান্তে শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল নীতিগত অবস্থান নয়; এটি দুই দেশের জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্মান ও সংহতির প্রতিফলন, বলে বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।