Published : 16 Jun 2026, 04:22 PM
ঢাকার বনানী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মীর মধ্যে ১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তবে এক আসামি কিশোর হওয়ায় আদালত তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।
মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার এসব নেতাকর্মীদের মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন-মোতাহের হোসেন শুভ, মারুফুল ইসলাম, তানভীর আহম্মেদ সানী, ওয়ালিউল্লাহ ফারুক আদর, সামির চৌধুরী ওরফে লিয়ন, ইমন আলী খান, ইয়াছিন আরাফাত আবির, সিফাত রহমান, ইয়াসিন আরাফাত নিহাদ, নাজমুল সরকার, আবির হোসেন, তৌকির তারেক আয়াজ ও হাবিবুর রহমান।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। বিদেশে থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা। এ ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে ফেরেন। সে দিনটিকে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সন্ত্রাসের অভিযোগে দলটির ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে। পরে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমেও নিষেধাজ্ঞা আসে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গেল ১৬ মে ছাত্রলীগের এই নেতাকর্মীরা বনানী এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
এক আসামিকে শিশু দাবি করে শুনানি করেন তার আইনজীবী সাইফুর রহমান সুমন। অপর আসামিদের পক্ষে এহসান কবীর রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।
শুনানিতে এই আইনজীবী বলেন, “তারা একটি মাইক্রোবাসে করে মিরপুর থেকে ৩০০ ফুট সড়ক এলাকায় যায় খেলা দেখতে। ফেরার পথে নেভি হেডকোয়ার্টারের সামনে এসে গাড়িতে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে তারা সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কোনো পদ-পদবি নেই তাদের।”
রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “নেভি হেডকোয়ার্টার নিরিবিলি এলাকা। তারা সেই জায়গায় বেছে নিয়েছে। ড. ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই জায়গায় মিছিল, মিটিং শুরু করে।

“এ আসামিরা মাইক্রোবাসে থেকে জয় বাংলা স্লোগান দেয়। তারা কোনো না কোনো এজেন্টের হয়ে এ কাজ করেছে। ‘শেখের বেটি’ ফিরবে বলেন স্লোগান দেয়। তারা সকলে ছাত্রলীগ কর্মী। রিমান্ডে নিলে সব তথ্য বের হয়ে আসবে।”
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা বনানী থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহমুখী লেনে নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের বিপরীত পাশে বেআইনিভাবে জড়ো হন। এসময় একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় করা মামলায় পরে বাকি ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয।
অভিযোগে বলা হয়, “গ্রেপ্তারকৃতরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা ওই স্থানে অবস্থান নিয়ে সংগঠনের নেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে সামনে রেখে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
“একই সঙ্গে তারা পরস্পর যোগসাজশে ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার মাধ্যমে সরকারি ও জনসাধারণের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত বা পতন ঘটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান সম্বলিত লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করছিলেন।”
মামলায় বলা হয়েছে, অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস সংক্রান্ত লেখা ও নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত ২৪টি পিভিসি পোস্টার, একটি টিভিএস আরটিআর মোটরসাইকেল এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।