Published : 16 Jun 2026, 07:54 PM
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যা মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ৩ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিকাল ৫টায় পুলিশ ও ডিবি সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জিসান মিয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদেশের পর তাকে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল বারী জানান।
শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে (২৮) অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেদিন রাতে এক নারী বাদী হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে এবং ধর্ষণের সহায়তায় আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এরপর থেকে জিসান পুলিশ প্রহরায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ ঘটনার পর পরই কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদ থেকে জিসানকে বহিষ্কার করে ইসলামী ছাত্রশিবির। তিনি একসময় সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি ছিলেন। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে।
হাসপাতালে থাকা অবস্থায় জিসানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিতর্ক এড়াতে রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, মেডিকেল বোর্ড গঠন করার পর বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়। এতে জিসান সুস্থ বলে প্রমাণ পাওয়ায় তাকে মঙ্গলবার সকালে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
জিসানকে যেদিন উদ্ধার করা হয়, সেদিনই এই মামলার অপর তিন আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।
অনুসন্ধানে নেমে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেইসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য, প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং এক পর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়।
পরে ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ের সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতে তিনি ‘নাটক সাজিয়ে’ আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি পুলিশের।
অপহরণের ‘নাটক’ সাজানো শিবির নেতা ধর্ষণ মামলার আসামি, ছিলেন আত্মগোপনে: পুলিশ