Published : 18 Jun 2026, 12:36 AM
টেস্ট ক্রিকেটের জন্য রোমাঞ্চকর একটি দিন কাটল ওভালে। ব্যাটে-বলে লড়াই হলো জমজমাট। শুরুর ধাক্কা সামলে মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় তিনশর কাছাকাছি পৌঁছে গেল নিউ জিল্যান্ড।
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন খেলা হয়েছে ৭৭ ওভার। নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৯১ রান।
ফিফটি থেকে এক রান দূরে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন গ্লেন ফিলিপস। জফ্রা আর্চারের সঙ্গে তার লড়াই জমে ওঠে বেশ। একপর্যায়ে সানগ্লাস পরে ব্যাটিং করা ফিলিপসকে বাউন্সারে কাবু করার চেষ্টা করতে থাকেন ইংল্যান্ডের গতিময় পেসার।
উইকেটে আছে ঘাসের ছোঁয়া। তবে লর্ডসে প্রথম টেস্টের মতো ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন নয় অবশ্যই, এখানে বরং ব্যাটিং সহায়ক।
ভেজা আউটফিল্ডের কারণে দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে বোলিং নেন ইংল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জো রুট। তিন অভিষিক্তসহ প্রথম টেস্টের একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে একাদশ নিশ্চিত করে দেয় তারা আগেই।
প্রথম টেস্টের পর আচমকা অবসরের ঘোষণা দেওয়া কেন উইলিয়ামসনের জায়গায় নিউ জিল্যান্ডের একাদশে সুযোগ পান হেনরি নিকোলস। তিনিসহ দলের প্রথম চার ব্যাটসম্যানই বাঁহাতি, নিউ জিল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসে এমন কিছু এটিই প্রথম।
ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে ডেভন কনওয়েকে হারায় নিউ জিল্যান্ড। চার বছরের অপেক্ষা শেষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা ম্যাথু ফিশারের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
প্রথম টেস্টের পর কনওয়ে দেশে ফিরেছিলেন দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য।
দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক টম ল্যাথাম ও নিকোলস। আর্চারের বলে গালিতে জ্যাকব বেথেলের দুর্দান্ত ক্যাচে লাথামের (৭৫ বলে ২৫) বিদায়ে ভাঙে ৮৯ বলে ৪৪ রানের এই জুটি।
প্রথম সেশনে ২ উইকেটে ৭৫ রান করে নিউ জিল্যান্ড। লাঞ্চের পর জশ টংয়ের অফ স্টাম্পের একটু বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন নিকোলস (৫৭ বলে ২৪)। রাচিন রাভিন্দ্রাকে (৫১ বলে ৩৩) ফিরিয়ে প্রথম উইকেটের দেখা পান অভিষিক্ত সনি বেকার।
ড্যারিল মিচেল ফিরতে পারতেন ২ রানে, গালিতে তার ক্যাচ নিতে পারেননি অভিষিক্ত জর্ডান কক্স। সুযোগটা কাজে লাগান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। টম ব্লান্ডেলের সঙ্গে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখান তিনি।
শেষ সেশনের শুরুতে মিচেলকে (৭৪ বলে ৪৪) ফিরিয়ে দ্বিতীয় শিকার ধরেন বেকার। থামে ৮১ রানের জুটি।
সাত নম্বরে নেমে শুরুতে উইকেটটি বাউন্ডারি আদায় করে নেন ফিলিপস। একপর্যায়ে তার রান ছিল ১৫ বলে ২৬। পরে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে লাগাম দেন তিনি। গড়ে ওঠে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটি।
দিনের শেষ ঘন্টায় চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করার এক বল পরই বিদায় নেন বান্ডেল (৪ বলে ৫১)। ভাঙে ৭৫ রানের জুটি। আক্রমণে এসে প্রথম ওভারে উইকেটটি পান বেথেল। পরে তার বাঁহাতি স্পিনে নিরীহ একটি ফুল টসে ক্যাচ তুলে দেন ন্যাথান স্মিথ।
ফিলিপসকে বারবার বাউন্সারে নাজেহাল করার চেষ্টা করেন আর্চার। সেই তোপ সামলে দিনের খেলা শেষ করেন ২৯ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২৯১/৭ (ল্যাথাম ২৭, কনওয়ে ৯, নিকোলস ২৪, রাভিন্দ্রা ৩৩, মিচেল ৪৪, ব্লান্ডেল ৫১, ফিলিপস ৪৯*, স্মিথ ৪, জেমিসন ৬*; আর্চার ১৯-৪-৫৮-১, ফিশার ১৯-৫-৪৫-১, টাং ১৬-১-৭৪-১, বেকার ১৫-২-৬৩-২, ব্রুক ৩-০-৯-০, বেথেল ৫-১-৮-২)