Published : 29 Jun 2026, 10:18 PM
প্রস্তাবিত বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট নেওয়ার সময় বিরোধী বেঞ্চের কণ্ঠস্বর কম শোনায় হাস্যরস করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সোমবার জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত পাঁচ নম্বর মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট চলছিল।
দাবিটি ভোটে দিলে বিরোধী বেঞ্চের পক্ষ থেকে ‘না’ বলার সময় আওয়াজ কম আসে।
তখন হাসতে হাসতে অধিবেশেনের সভাপতি ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আওয়াজ কম। আওয়াজ কম। বোঝা গেছে? টায়ার্ড সবাই, আওয়াজ কম। আমরা তাড়াতাড়ি শেষ করব। ডোন্ট ওরি।”
এরপর তিনি বলেন, “আমার মনে হয় হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। অতএব দাবি নম্বর পাঁচ মহান সংসদে গৃহীত হল।”
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। দিনের কার্যসূচিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ছাড়া অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ রাখা হয়।

জোহর, আসর ও মাগরিবের বিরতি দিয়ে দিনভর অর্থবিল পাশ ও মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া চলে।
অধিবেশনের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে ৪৩ জন সংসদ সদস্য মোট ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিরোধী দলের কাছ থেকে ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত খাতের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনার তালিকা পাওয়া গেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দাবিগুলোতে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে; অন্য দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পত্তি করা হবে।
এ পর্যায়ে পাবনা-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন দাঁড়িয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাব বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অধিকার। সংসদের সময়ের কথা ভেবে তারা প্রস্তাবের তালিকা কমিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এরপরে মাত্র আপনারা যদি গিলোটিন দিয়ে আটটা করে দেন, তাহলে তো আমাদের এখানে থাকার কোনো মানে নেই। আমরা চলে যাই, আপনারা এমনি পাস করে ফেলেন।”
জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আপনারা যেভাবে তালিকা দিয়েছেন, সেভাবে হবে। ডোন্ট ওরি।”
এরপর মঞ্জুরি দাবিগুলোর ওপর ভোট শুরু হয়।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল বারী পাঁচ নম্বর মঞ্জুরি দাবি তুলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় খাতে ২০২৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের রাষ্ট্রপতির জন্য ৫ হাজার ৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা মঞ্জুরির প্রস্তাব করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওই দাবির ওপর ৩০ জন সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ তাজউদ্দিন খানকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়।
তাজউদ্দিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সরকারি নীতি নিয়ে আলোচনার জন্য ৫ নম্বর দাবি কমিয়ে ১ টাকা করার প্রস্তাব করেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সরকারের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মূল স্তম্ভ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ, পদায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এ মন্ত্রণালয়ের।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী ছাঁটাই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অন্যতম চালিকাশক্তি জনপ্রশাসন।
তিনি বলেন, “সততা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে সকল নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত বরাদ্দের মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৪ হাজার ৫৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৪৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এই বরাদ্দ কমানো হলে জনপ্রশাসনের অধীন সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
পরে তাজউদ্দিন খানের ছাঁটাই প্রস্তাব ভোটে দিলে তা নাকচ হয়। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবিটি ভোটে দেন ডেপুটি স্পিকার। সেই ভোটের সময়ই বিরোধী বেঞ্চের আওয়াজ কম শুনে তিনি হাস্যরস করেন।
বাজেট প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক মঞ্জুরি দাবির ওপর সংসদ সদস্যরা ছাঁটাই প্রস্তাব আনতে পারেন। এসব প্রস্তাবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নীতি, ব্যয় বা নির্দিষ্ট বরাদ্দ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়।
প্রতিটি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার আলাদাভাবে সংসদের সামনে তোলেন। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি হয়।
দিনের কার্যক্রম শেষে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ডেপুটি স্পিকারের ‘আওয়াজ কম’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, হ্যাঁ-না ভোটের আওয়াজ কার বড়, কার ছোট, তা মাপার জন্য একটি মেশিন বসানো যেতে পারে।
তিনি বলেন, “আপনি যদি বড় করে বলতে বলেন আর সাথে সাথে যদি বলেন, আওয়াজ বড় হলে সংখ্যায় যা হবে হোক, আমরা অবশ্যই আওয়াজ বড় হলেই পাস করব। এটা যদি বলেন, তাহলে আওয়াজটা কী হয়, এটা একটু পরীক্ষা করে দেখবেন আগামীকাল।”
তার বক্তব্যে সংসদে আবারও হাসির আবহ তৈরি হয়।