Published : 08 Jan 2026, 03:32 PM
পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ নিতে দুর্নীতির অভিযেগে শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চেয়েছেন রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।
আত্মসমর্পণের পর কারাগারে থাকা খুরশীদ আলমকে বৃহস্পতিবার আত্মপক্ষ শুনানির জন্য ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ রবিউল আলমের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার ১৮ আসামির মধ্যে বাকি ১৭ জনই ‘পলাতক’।
খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। আদালতের দৃষ্টিতে পলাতক থাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার দুই ভাগ্নি শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকসহ ১৭ জন আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেননি। তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবীও মামলা লড়ার সুযোগ পাননি।
আদালত আগামী ১৩ জানুয়ারি এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছে বলে বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন জানিয়েছেন।
একই আদালতে রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার। ববি, তার বোন টিউলিপ সিদ্দিক, তাদের খালা শেখ হাসিনাসহ মোট ১৮ জন এ মামলার আসামি।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল ইসলাম আংশিক সাক্ষ্য দেন। তার অবশিষ্ট সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৩ জানুয়ারি দিন রাখা হয়েছে।
গত বছরের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে’ রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুদক।
এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।
এর মধ্যে শেখ হাসিনা পরিবারের তিন মামলার বিচার শেষে সাজার রায় এসেছে। শেখ রেহানা ও টিউলিপের একটি মামলারও রায় দিয়েছে আদালত।
চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। জয় ও পুতুলের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া শেখ রেহানার ৭ বছর এবং তার মেয়ে টিউলিপের ২ বছরের সাজা হয়েছে।
রূপন্তীর বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলায় শেখ পরিবারের বাইরে অন্য আসামিরা হলেন– জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।