এমভি আবদুল্লাহর কাছে ‘আটলান্টা অপারেশনের’ যুদ্ধজাহাজ

ইইউএনএভিএফওআর এর পোস্টে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কথা বলা হলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়নি।

মিঠুন চৌধুরীমিঠুন চৌধুরীবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 March 2024, 04:10 AM
Updated : 22 March 2024, 04:10 AM

সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর কাছেই ইইউএনএভিএফওআর আটলান্টা অপারেশনের একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর ওই সংস্থাটি তাদের এক্স হ্যান্ডেলে বিষয়টি জানিয়েছে। 

এক্স পোস্টে ইইউএনএভিএফওআর বলেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে দস্যুতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। যার মধ্যে একটি, এমভি আবদুল্লাহ এখনো জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে আছে। 

ওই এলাকায় আটলান্টা অপারেশনের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন আছে। 

পোস্টে যুক্ত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে এমভি আবদুল্লাহর অদূরেই ইইউএনএভিএফওআর এর যুদ্ধজাহাজটিকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। 

এছাড়া একটি হেলিকপ্টারও এমভি আবদুল্লাহর কাছাকাছি চক্কর দিতে দেখা যাচ্ছে।

পূর্ব আফ্রিকা উপকূলে জলদস্যুতা নির্মূলে কাজ করে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেভাল ফোর্সও তাদের ‘অপারেশন আটলান্টার’ অংশ হিসেবে এমভি আবদুল্লাহর ওপর নজর রাখছে বলে শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে। 

বৃহস্পতিবার গভীর রাতের এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে সংযুক্ত তিনটি ছবির একটিতে ইইউএনএভিএফওআর- আটলান্টা অপারেশনের দুজন কমান্ডোকে এমভি আবদুল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। 

অন্য দুটি ছবির একটিতে এমভি আবদুল্লাহর উপর হেলিকপ্টার টহল দিতে এবং আরেক ছবিতে যুদ্ধ জাহাজটিকে দেখা যাচ্ছে। 

ইইউএনএভিএফওআর এর পোস্টে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কথা বলা হলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়নি। 

এই পোস্টের সাথে সংযুক্ত একটি প্রতিবেদনে, ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ২১ মার্চ পর্যন্ত গত প্রায় চার মাসে এডেন উপসাগর ও সোমালি সমুদ্রসীমায় ২৪ টি জলযানে দস্যুতা, ডাকাতি, ছিনতাই ও দখলচেষ্টার ঘটনার উল্লেখ করা হয়।

মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরব আমিরাত যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরের সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে এমভি আবদুল্লাহ। জলদস্যুরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২৩ নাবিকের সবাইকে জিম্মি করে। নাবিকরা সবাই বাংলাদেশি। 

জলদস্যুদের সঙ্গে প্রথমবারের মত কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ হওয়ার তথ্য গত বুধবার জানায় জাহাজটির মালিকপক্ষ। 

এর আগে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজটি এবং জিম্মি নাবিকদের জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত করতে সোমালিয়ার পান্টল্যান্ড পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দেশটির পান্টল্যান্ড অঞ্চলের পুলিশের বরাতে সোমবার রয়টার্সে খবর এসেছে।

কিন্তু নাবিকদের ‘নিরাপত্তায়’ এমভি আবদুল্লাহ উদ্ধারে কোনো অভিযান চায় না জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান। 

এমভি আবদুল্লাহর মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের মিডিয়া ফোকাল পার্সন মিজানুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা কোন ধরনের সামরিক পদক্ষেপে সমর্থন করেন না। বাংলাদেশ সরকারেরও একই চাওয়া।” 

জলদস্যুদের হাতে ছিনতাই হওয়ার পর বেশ কয়েকবার অবস্থান বদলে বর্তমানে জাহাজটি সোমালিয়ার পান্টল্যাণ্ড অঞ্চলের উপকূলের মাত্র দেড় নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে। 

গত সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ভারতীয় কমান্ডোরা জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি রুয়েনে অভিযান চালিয়ে ১৭ ক্রুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার পর এমভি আবদুল্লাহয় অভিযানের এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পান্টল্যান্ড সোমালিয়ার একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যেখানে অনেকগুলো জলদস্যু দলের ঘাঁটি রয়েছে। ওই এলাকার পুলিশ বাহিনী বলেছে, এমভি আবদুল্লাহকে দখল করে থাকা জলদস্যুদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর অভিযানের একটি পরিকল্পনা তারা জানতে পেরেছে। সে কারণে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অভিযানে অংশ নিতেও প্রস্তুত রয়েছে। 

এর আগে রোববার এমভি আবদুল্লাহ দখল করে রাখা জলদস্যুদের জন্য ‘খাত’ নামের এক ধরনের মাদক নিয়ে যাওয়ার সময় একটি নৌযান জব্দ করার কথা জানিয়েছিল পান্টল্যান্ড পুলিশ। 

এছাড়া আবদুল্লাহকে জলদস্যুদের যে দলটি দখল করেছে সেই দলের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তারও করে স্থানীয় পুলিশ। 

ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইএনএস তর্কশ গত বৃহস্পতিবার সকালে এমভি আবদুল্লাহর কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু নাবিকরা সশস্ত্র জলদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকায় সে সময় অভিযান চালানো থেকে বিরত থাকেন ভারতীয় নৌ সেনারা। 

এর আগে ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তায় থাকা ইউরোপীয় বাহিনী আবদুল্লাহর জিম্মি নাবিকদের উদ্ধারে অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ সরকার তাতে সায় দেয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খুরশেদ আলম সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে আলোচনায় জানিয়েছিলেন। 

২০১০ সালে কবির গ্রুপের মালিকানাধীন এমভি জাহান মনি নামে আরও একটি জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল। মুক্তিপণ দিয়ে ১০০দিন পর জাহাজিটি ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

Also Read: এমভি আবদুল্লাহ: মালিকপক্ষের সঙ্গে জলদস্যুদের প্রথম যোগাযোগ

Also Read: এমভি আবদুল্লাহ: ‘অভিযানের প্রস্তুতি’ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক বাহিনী

Also Read: এমভি আবদুল্লাহ: ‘জোরপূর্বক’ উদ্ধারে ইইউর প্রস্তাবে বাংলাদেশের ‘না’