Published : 11 Jul 2023, 06:29 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক এস তাহের হত্যামামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জাহাঙ্গীর আলমকে তিনদিন থানায় আটক রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলমের সাজার ওপর স্থগিতাদেশও চাওয়া হয়।
সোমবার জাহাঙ্গীরের ভাই সোহরাব হোসেন আইনজীবী সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামীর মাধ্যমে এই রিট আবেদন জমা দেন।
সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আবেদনটি মঙ্গলবার আদালতের নজরে আনা হয়েছে। আগামীকাল (বুধবার) আমরা এ আবেদনের ওপর শুনানির চেষ্টা করব।”
রিটের আবেদনে বলা হয়, রাজশাহীর মতিহার থানায় মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ২০০৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আটক রাখা হয়েছিল; যা সংবিধান ও ফৌজদারি কার্যবিধির লংঘন।
এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং নিহত অধ্যাপক তাহেরের বাসার কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম। নিম্ন আদালতে রায় ঘোষণার পর থেকেই দুই আসামিকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।
কারাকর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিলেন আসামিরা। সে আবেদন গত মাসে নাকচ করেন রাষ্ট্রপতি। গত ৫ জুলাই সেই চিঠি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়।
জেল কোড অনুযায়ী, চিঠি হাতে পাওয়ার ২১ থেকে ২৮ দিনের দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
তার আগেই এই রিট আবেদন করা হলো।
২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাবির শিক্ষকদের পশ্চিমপাড়া আবাসিক কোয়ার্টার থেকে নিখোঁজ হন অধ্যাপক তাহের। ওই বাসায় তিনি একাই থাকতেন। কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম তার দেখাশোনা করতেন। পরদিন বাসার পেছনের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় অধ্যাপক তাহেরের গলিত মরদেহ। ৩ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
অধ্যাপক তাহেরের করা একটি জিডির সূত্র ধরে বিভাগের শিক্ষক মহিউদ্দিন ও রাবির ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী, কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীরসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
২০০৭ সালের ১৭ মার্চ শিবির নেতা মাহবুব আলম সালেহীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালত চারজনকে ফাঁসি ও দুজনকে খালাস দেয়।
দণ্ডিত অন্যরা হলেন জাহাঙ্গীরের ভাই নাজমুল ও তার স্ত্রীর ভাই সালাম। তবে বিচারে খালাস পান ছাত্রশিবিরের নেতা সালেহী ও আজিমুদ্দিন মুন্সি।
পরবর্তীতে দণ্ডপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আপিল বিভাগ মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের রায় বহাল রাখলেও নাজমুল ও সালামের রায় কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। পরে তাদের দণ্ড বৃদ্ধি চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
শুনানি শেষে ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল আপিল বিভাগ হাই কোর্ট বিভাগের রায়ই বহাল রাখে।
গত ২ মার্চ আসামিদের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট। নিম্ন আদালতে দুজনের মৃত্যুদণ্ডের যে রায় দেওয়া হয়েছিল, আপিলে সেটিই বহাল থাকে। খারিজ হয় রিভিউ আবেদনও।
এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা ছাড়া আর কোনো পথই খোলা ছিল না তাদের। এরপরও দুজনের ফাঁসি কার্যকর স্থগিত চেয়ে হাই কোর্টে গত ৭ মে ফের রিট আবেদন করেন স্বজনরা। সে আবেদনও আদালতে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।
আরও পড়ুন: