Published : 22 Dec 2025, 12:57 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের দুই পত্রিকা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
সোমবার রাজধানীতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য তুলে ধরেন।
এই ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম-সিটিটিসি ৩ জনকে এবং গোয়েন্দা পুলিশ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “হামলার ভিডিও বিশ্লেষণ করে এখন
পর্যন্ত ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হল।”
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. নাইম, মো. আকাশ আহমেদ সাগর, মো. আব্দুল আহাদ, মো বিপ্লব, মো. নজরুল ইসলাম মিনহাজ, মো. জাহাঙ্গীর, মো. সোহেল রানা, মো. হাসান, রাসেল ওরফে শাকিল, মো. আব্দুল বারেক শেখ আলামিন, রাশেদুল ইসলাম, সোহেল রানা, শফিকুল ইসলাম, মো. প্রান্ত ওরফে ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, আবুল কাসেম, রাজু হোসাইন ও মো. সাইদুর রহমান।
তাদের মধ্য থেকে নাইমের কাছ থেকে সেদিনের লুটের টাকায় কেনা টিভি, ফ্রিজ এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রথম আলোতে হামলার ঘটনায় মামলা হলেও ডেইলি স্টারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ হয়নি হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ডেইলি স্টারের মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, "রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আমি খুঁজতে চাচ্ছি না, এরা দুষ্কৃতিকারী। তারা আইন ভঙ্গ করছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। বাংলাদেশের প্রচলিত যে আইন, যে বিচার ব্যবস্থা, সে বিচার ব্যবস্থায় তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। সে যে দলেরই হোক, যে মতেরই হোক।
"এরকম যদি সংশ্লিষ্টতা থাকে আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করতেছি এবং এরেস্টও করতেছি। ১৭ জন এরেস্ট হইছে, আরো এরেস্ট হবে। কারণ ওখানে অনেক লোকজন ছিল, যারা সরাসরি এইটার সাথে জড়িত।”
অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো ঘটনার প্রতিবাদ করা এবং এ ধরনের কাজ করা দুটো আলাদা বিষয়।
“এই ঘটনার আড়ালে আমি একটা অফিসে গিয়ে আগুন দিয়ে দিব, ভাঙচুর করব, ভ্যান্ডালিজম করব এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। এইটা যারা করছে, ব্যাড ইন্টেনশন নিয়ে করছে। তাদেরকে আমরা অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসব।"