Published : 27 May 2026, 10:20 PM
ঈদযাত্রার শেষ দিন গাবতলী বাস টার্মিনালে চিরচেনা ভিড় নেই। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গন্তব্যের নাম ও ভাড়া বলে অনবরত যাত্রী ডাকছেন হেলপাররা। যাত্রী সংখ্যা কমে গেলেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশিই চাইছেন তারা। এ নিয়ে চলছে যাত্রী ও হেলপারদের মধ্যে দরকষাকষি।
বুধবার বিকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বেশির ভাগ কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় নেই। অনেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসের হেলপারদের সঙ্গে দরকষাকষি করে উঠছেন। আরেকদিকে বিআরটিসি বাস মাইকিং করে যাত্রী ডাকছে।
বিআরটিসি বাসের সহকারী মামুন বলেন, উত্তরবঙ্গের রংপুর-বগুড়া সব জায়গার ভাড়া ৮০০ টাকা। চেয়ার কোচ সার্ভিস। এর কম হলে চলবে না।
পাটুরিয়া ঘাটগামী এক বাসের সহকারী বলেন, ঈদ উপলক্ষে পাটুরিয়া পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন তারা। সিটে ভাড়া ২০০ করে। অন্যরা ৩০০ নিলেও একশ কম নিচ্ছেন তারা।
ঈদ এলেই দাম বেশি নেওয়ায় এদিনও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক গন্তব্যমুখী যাত্রী।
তাদের অভিযোগ, ঈদযাত্রার সময়গুলোতে ঘর থেকে বের হতে না হতেই সবাই বেশি টাকা চাইতে শুরু করে। কিন্তু ঈদের মধ্যে ব্যয়ের খাত বাড়ায় পারিবারিক যে খরচ বাড়ে তাতে হিমশিম খেতে হয়।
সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী রশিদ ইসলাম বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া লাগে ২০০ টাকা। তবে এখন ৩০০ টাকার এর কমে কেউ নেয় না।
এটিকে নিয়তি বলেই মেনে নেওয়ার আক্ষেপ তার।
পাটুরিয়া ঘাটে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্রমজীবী রহিম মিয়া। তিনি বলেন, ঢাকায় রিকশা চালাই। কিন্তু বাসের ভাড়া আগের মতোই বেশি চাইতেছে।
“দেহি যেটায় কম কইবো, তাগো বাসে উঠমু।”
এদিন বাস টার্মিনালে থাকা ‘ভিজিলেন্স টিমের’ কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেন আদম ইসলাম নামের এক যাত্রী। বলেন, “আমি যাব ঝিনাইদহ। এখানে স্বাভাবিক সময়ে রয়্যাল বাসের ভাড়া ৮০০ টাকা। কিন্তু বাধ্য হয়ে ১৪০০ টাকায় টিকিট কিনতে হয়েছে। এটির অভিযোগ দিতে এসেছি।”
ভিজিলেন্স টিমের সদস্য সরকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, “আমাদের টিমের ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করছেন। তারা বেশি ভাড়া নেওয়া ওই বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
গত কয়েক দিনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুটো অভিযোগ ছিল। সে অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার সেভাবে আর কোনো অভিযোগ আসেনি।