Published : 10 Feb 2026, 10:07 PM
গেল বছর দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটেছে, আর এসব ঘটনায় ৮৫ জনের মৃত্যু এবং ২৬৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
গড়ে দিনপ্রতি ৭৫টি অগ্নির দুর্ঘটনার তথ্য দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ, বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা, চুলা এবং গ্যাস সিলিন্ডার ও সরবরাহ লাইন লিকেজের কারণে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে এসব অগ্নিকাণ্ডে এক বছরে প্রায় ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস আগুন নির্বাপণের মাধ্যেমে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬২ লাখ ১ হাজার ৯১৬ টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে বলে দাবি করা হয় সেখানে।
আগুন নেভাতে গিয়ে এ বাহিনীর ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আহত হয়েছেন ১৭ জন।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২৭ হাজার ৫৯টি আগুনের ঘটনার মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৩৯২টি বা ৩৪.৭১% শতাংশ ক্ষেত্রে কারণ ছিল বৈদ্যুতিক গোলযোগ।
বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে ৪ হাজার ২৬৯টি বা ১৫.৭৮% আগুন লেগেছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এছাড়া চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি (১০.৭৫%), গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে ৯২০টি (৩.৪০%), গ্যাস সরবরাহ লাইন লিকেজ থেকে ৫৬২টি (২.০৮%), গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ১২১টি (০.৪৫%), কেমিক্যাল বা রাসায়নিক দুর্ঘটনা থেকে ৩৮টি (০.১৪%), ছোটদের আগুন নিয়ে খেলার কারণে ৬০৮টি (২.২৫%), উত্তপ্ত ছাই থেকে ৩৫৬টি (১.৩২%), কয়েল থেকে ৪৯৩টি (১.৮২%) এবং আতশ বাজি/ফানুস/পটকা পোড়ানো থেকে ১০৯টি (০.৪০%) আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বাসাবাড়ি বা আবাসিক ভবনে। সারাদেশে এরকম ঘটনার সংখ্যা ৮ হাজার ৭০৫টি, যা মোট অগ্নিকাণ্ডের ৩২.১৭ শতাংশ।
এছাড়া খড়ের গাদায় ৩ হাজার ৯২২টি, দোকানে ১ হাজার ৮০০টি, হাট বাজারে ১০৬৭টি, শপিং মলে ৬১৭টি, পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৬৫টি, পোশাক শিল্প বাদে অন্য কলকারখানায় ৬১৫টি, গ্যাস সিলিন্ডার দোকানে ৪৮৩টি, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ১২২টি, বহুতল ভবনের আগুন (৬ তলার উপরে) ৭১টি, রেস্তোরাঁ ও হোটেলে ১৫৫টি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৫২টি, সরকারি হাসপাতালে ৩৪টি, বেসরকারি হাসপাতালে ২৫টি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৭২টি, পাট গুদাম-পাটকলে ১২২টি, কেমিকেল গোদাম/দোকানে ৩৬টি, বস্তিতে ৯১টি, মসজিদে ২৫টি, মন্দিরে ৯টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২৩টি এবং এসিতে ৬২টি আগুনের ঘটনা ঘটে।
পরিবহনে আগুনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে সারাদেশে বাসে ১৫৩টি বাসে আগুনের ঘটনা ছিল, এছাড়া অন্যান্য যানবাহনে ২১৬টি, ট্রেনে ১০টি, লঞ্চে ৪টি, জাহাজে ২টি এবং ১টি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুনের ঘটনা ছিল।
২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ৭ হাজার ৮১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই বছর ১ হাজার ২৩৯টি বাস, ১ হাজার ৮৯টি ট্রাক, ১ হাজার ৭৩২টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে বাস দুর্ঘটনায় ২৮৯ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ৯৩৪ জন আহত হয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৩ জনের মৃত্যুসহ আহত হয়েছেন ২ হাজার ১৯০ জন।
অগ্নি নিরাপত্তা জরিপের আওতায় ফায়ার সার্ভিস সারা বছরে ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করেছে। যার মধ্যে ৩ হাজার ৩১৬টি ভবন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’, ৬২২টি ভবন ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ৬৫৯৫টি ভবন ‘সন্তোষজনক’ মানে রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।