Published : 08 Oct 2025, 06:28 PM
‘উপদেষ্টাদের অনেকে সেইফ এক্সিট’ খুঁজছেন’ বলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিনি কোনো ‘এক্সিট’ খুঁজছেন না।
তিনি বলেছেন, “এর আগেও বহু ঝড়ঝঞ্ঝা এসেছে, ওই ঝড়ঝঞ্ঝা প্রতিহত করে দেশে থেকেছি। বাকিটা জীবনও বাংলাদেশেই কাটাব আপনাদের সঙ্গে।”
সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক পরিবেশ উপদেষ্টার কাছে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য তাকেই প্রমাণ করতে হবে। এটা আমার বিষয় না, ওই বক্তব্য খণ্ডানোরও বিষয় না।
“বক্তব্য সুনির্দিষ্ট হলে হয়ত সরকারের পক্ষ থেকে কথা বলা হত। এটা হয়ত তাদের ধারণা, তারা মনে করেন। এখানে সরকারের অবস্থান নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।”
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলের নেতারা নানা বিষয়ে নানা কথা বলে যাচ্ছে, এটা তাদের অধিকার। এটাই গণতন্ত্রের চর্চা, এতে সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখানোর কিছু নেই। প্রতিটি বিষয় নিয়েই যদি আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাই, প্রতিটি বিষয় নিয়েই যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে আমাদের মন্ত্রণালয়গুলো আমরা কখন চালাব?
“অন্য রাজনৈতিক দলের মত নবগঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও (এনসিপি) সরকারের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এখন এটা উনি (নাহিদ ইসলাম) অভিমান থেকে বলেছেন, নাকি কোনো একাট ব্যাপারে ওনার ‘ক্ষোভ’ আছে, এই বিষয়গুলো উনাকে পরিষ্কার করতে হবে। উনি যদি কখনো কোনো বিষয় পরিষ্কার করেন, তখন সেটা নিয়ে সরকারের বক্তব্যের কথা আসে। তার আগে সরকারের বক্তব্যের কোনো সুযোগ নেই।”
সম্প্রতি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার এক বক্তব্যে বলেন, ‘উপদেষ্টাদের অনেকে সেইফ এক্সিট’ খুঁজছেন’। মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁয় এক অনুষ্ঠানে দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও একই প্রসঙ্গে কথা বলেন।
সারজিস বলেন, “কিছু উপদেষ্টার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা কোনোভাবে দায়সারা দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এক্সিট নিতে পারলেই হলো। এই দায়সারা দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অভ্যুত্থান পরবর্তী একটি সরকার কাজ করতে পারে না।
“তারা এত শহীদের রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে ওখানে আছেন। এখন তারা যদি জীবনের একটু হুমকির ভয় করেন, তাহলে তাদের তো দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল না। তারা যদি এমনটা করে থাকেন, তাহলে দেশের মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারবে না। কোথায় ‘সেইফ এক্সিট’? ‘সেইফ এক্সিট’ তো একমাত্র মৃত্যু, মৃত্যু ছাড়া তো মানুষের ‘সেইফ এক্সিট’ নেই।”
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথা বলেন পরিবেশ উপদেষ্টা।
সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল দাবি করে তিনি বলেন, “শুধু সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাচ্ছে বিষয়টা এমন নয়। সব রাজনৈতিক দলও আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পক্ষে। এজন্য তারা (রাজনৈতিক দল) তাদের কার্যক্রমও শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারি ইলেকশন হবে, এখানে প্রশ্নবোধক চিহ্ন তোলার আর কোনো সুযোগ বা অবকাশ আছে বলে আমরা মনে করছি না।”
সংস্কার-বিচার নিয়ে তিনি বলেন, “এগুলো চলমান প্রক্রিয়া, বিচার বিচারের মত চলছে। বিচার কীভাবে চলছে, সেটা সবাই প্রত্যক্ষ করতে পারছেন। সরকার চায় সুবিচার নিশ্চিত হোক।
“বিচারের ক্ষেত্রে আমাদের যে কমিটমেন্ট সেটাও আমরা দেখিয়েছি। যখন দেখেছি একটা ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ বেশি পড়ে যায় তখন আমরা আরেকটা ট্রাইব্যুনাল করেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য নিয়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়নি, বলা যাবে না। দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ঐকমত্যের বাস্তবায়ন কেমন করে হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নানা অপশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে, দুয়েকটা অপশনের দিকে রাজনৈতিক দলগুলো বেশি সমর্থন দিয়েছে।
“আপনি যদি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটা প্রশ্নের সমাধান চান, সেটায় ‘আপস অ্যান্ড ডাউন’ হবেই। ‘স্মুথ’ যাওয়ার সুযোগ নেই। ‘স্মুথ’ যেটা যাচ্ছে সেটা হচ্ছে আলোচনা, সবাই আলোচনায় আসছেন, সবাই মতামত দিচ্ছেন। কিন্তু পরিবর্তন কী করে হবে, সেখানে রাজনৈতিক ‘ডিবেট’ থাকবেই। সেখানে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”
সরকার একটি স্বচ্ছ নির্বাচন চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জনগণের অংশগ্রহণের পথে কোনোকিছু যেন অন্তরায় না হয়, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে যতভাবে সহায়তা করা দরকার, সরকার তা করবে।”