Published : 12 Apr 2026, 12:06 AM
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া ও স্মরণসভা হয়েছে।
শনিবার সকালে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাসানী জনশক্তি পার্টিও। সেইসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার স্মরণে দোয়া ও স্মরণসভা হয়েছে।
সকালে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি নিয়ে সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সেখানে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে ভাসানী জনশক্তি পার্টিও। দলটির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবুল বিশ্বাস, বিলকিস খন্দকার, নারী নেত্রী সাহানা বেগমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
গণঅধিকার পরিষদের সভায় দলটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, “ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, ব্যক্তি জীবনে তিনি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য তিনি অস্থায়ী হাসপাতাল গড়ে তোলেন। তিনি এরশাদ সরকারের আমলে জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
“আওয়ামী আমলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণতন্ত্রকামী মানুষের লড়াইয়ের সঙ্গে ছিলেন। তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। ফ্যাসিবাদের আমলে তার ভূমিকা আমরা ভুলে গেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্মরণে রাষ্ট্রীয় কোনো আয়োজন ছিল না।”
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, “ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন একজন নির্ভীক দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সংগঠক এবং গণমানুষের চিকিৎসাসেবার পথপ্রদর্শক। তিনি আজীবন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে লড়াই করেছেন। তার আদর্শ ও সংগ্রাম আমাদের পথ দেখাবে। তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”
স্মরণ সভায় গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য হাবিবুর রিজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিলু খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়ন নুর ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আব্দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকার ধানমণ্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে মারা যান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
একাত্তরে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় আত্মনিয়োগকারী জাফরুল্লাহর পরে বড় অবদান ছিল জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তুলে কম খরচে দরিদ্রদের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করায়ও তার অবদান স্মরণ করা হয়।
২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগবিরোধী দলগুলোকে এক মঞ্চে এনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
তার জন্ম ১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে। ঢাকার বকশীবাজারের নবকুমার স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন তিনি। ১৯৬৪ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন।
এরপর উচ্চ শিক্ষা নিতে তিনি যুক্তরাজ্যে গেলেও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর পড়াশোনা বাদ রেখে দেশের টানে ছুটে আসেন।
লন্ডন থেকে ফিরে ভারতের আগরতলার মেলাঘরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রথমে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন জাফরুল্লাহ, পরে সেখানেই ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় আত্মনিবেদিত হন। তার এই বড় ভূমিকার কথা এখনও স্মরণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।