Published : 03 Jun 2026, 01:00 AM
মিয়ানমারে গণহত্যা ও সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তহবিল সংকট নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, মানবিক সহায়তার তহবিল ঘাটতির কারণে রোহিঙ্গা সংকট আরো ঘনীভূত হতে পারে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে।
তার পর থেকে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এছাড়া আগে থেকেই বাংলাদেশে কিছু রোহিঙ্গা আশ্রিত ছিল। পরের বছরগুলোতে ধীরে ধীরে আরো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
সব মিলে বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।
ইউএনএইচসিআর বলেছে, “মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জীবনযাত্রা মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার প্রায় নয় বছর পর, সাহায্য সংস্থাগুলো এখন রোহিঙ্গাদের মৌলিক ও জরুরি সেবাগুলো টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
“বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন সংকট তৈরি হওয়া এবং দাতা দেশগুলোর বাজেট সংকুচিত হওয়ার কারণে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই শরণার্থী জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা বজায় রাখা জাতিসংঘ এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলোর জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।”
ইউএনএইচসিআরের বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের শুরুর দিক থেকে মিয়ানমারে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতা থেকে বাঁচতে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করায় চাপ আরো বেড়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু ইউরোপীয় দেশ আন্তর্জাতিক সহায়তার তহবিল কমিয়ে দেওয়ায় আরেক দফা বেড়েছে।

গেল মে মাসে জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৭১ কোটি ৫ লাখ ডলারের একটি মানবিক সহায়তার আবেদন করেছিল।
গত বছরের তুলনায় এই আবেদনের আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা এমনিতেই ২৬ শতাংশ কম ছিল। অথচ এখন পর্যন্ত এই তহবিলের মাত্র ৬০ শতাংশ পাওয়া গেছে, যা ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটকেই স্পষ্ট করে তোলে।
তহবিলের জন্য এই আকুতিটি এমন এক সময়ে এল যখন আগামী অগাস্টে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর নয় বছর পূর্ণ হবে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাকি বিশ্বকে রোহিঙ্গাদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালোচ বলেন, “কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, আর বাংলাদেশ সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে শরণার্থীদের এই ধারাবাহিক আগমনকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে।
“বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জীবনযাত্রা এখন অত্যন্ত শোচনীয়। উপচে পড়া ভিড় এবং ভঙ্গুর এই আশ্রয় শিবিরগুলো প্রতিনিয়ত চরম আবহাওয়া, রোগব্যাধি এবং নিরাপত্তার অভাবের মতো হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে; যার সঙ্গে মৌলিক সেবাগুলোর সীমিত সুযোগ তাদের কষ্টকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।”
মঙ্গলবার জেনিভার পালে দে নাসিওঁতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক সংহতি অব্যাহত না থাকলে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর দুর্দশা আরও বাড়বে তুলে ধরেন বাবর বালোচ।
তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মানবিক সংকট ও অস্থিতিশীলতার কারণে সহায়তার ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে সীমিত সম্পদের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য সেবাগুলোকে হুমকির মুখে ফেলছে।”