Published : 01 Apr 2026, 04:49 PM
তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ থেকে ই-সিগারেট এবং বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধের ধারা বাদ দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়ায় অভিযোগ এনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তামাকবিরোধী কয়েকটি সংগঠন।
বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, গবেষণায় প্রমাণিত ই-সিগারেটের মত ‘ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট’ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি তরুণদের নিকোটিন আসক্তির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
“একইভাবে বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের তামাক ব্যবহারে প্রলুব্ধ এবং এই ক্ষতিকর পণ্য ব্যবহার বিশেষভাবে উৎসাহিত করে।”
সংগঠনগুলো বলছে, ই-সিগারেট এবং বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ধারা দুটি অধ্যাদেশ থেকে বাদ দেওয়া হলে তামাক নিয়ন্ত্রণে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। একইসঙ্গে আরো সুগম হবে তামাক কোম্পানিগুলোর ‘আগ্রাসী মৃত্যুবিপণনের’ পথ।

ওই ধারাগুলো বাদ দেওয়া হলে তা তামাক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার বিষয়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ হবে বলে সংগঠনগুলো মনে করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ মারা যায়। তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনে স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ক্ষতি বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের চেয়ে এই ক্ষতি দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে ৩৫ দশমকি ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করছেন।
বিবৃতিদাতা সংগঠনগুলোর একটি পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান ধারা দুটি বাদ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনস্বাস্থ্য এবং তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষার বিষয়টি অবশ্যই ‘সংকীর্ণ মুনাফা স্বার্থের ঊর্ধ্বে’ রাখতে হবে।
বিবৃতিদাতা অন্য সংগঠনগুলো হলো- অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা), ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ডরপ, নারী মৈত্রী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, তাবিনাজ ও প্রজ্ঞা।