রিমান্ড শেষে কারাগারে এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মজুমদার
গণআন্দোলনে ইমন হোসেন গাজী নামে এক যুবককে হত্যার মামলায় তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার এক আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আক্তারুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
সাত দিনের রিমান্ড শেষে এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাহাবুল ইসলাম। আসামির আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে বিচারক আদেশ দেন।
গণআন্দোলনে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার দিন গত ৫ অগাস্ট যাত্রাবাড়ীতে ইমন হোসেন গাজী নামে এক যুবক গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় গত ২৮ অগাস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন তার ভাই আনোয়ার হোসেন।
ওই মামলায় গত ১ অক্টোবর মধ্যরাতে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
নজরুল ইসলাম নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান। আশুলিয়ায় তার গ্রুপের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সম্প্রতি আন্দোলনেও নামে।
গত ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের মত ব্যাংক খাতের উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে যান। নজরুল ইসলাম মজুমদারও ওই সময় থেকে প্রকাশ্যে আসেননি। ক্ষমতার পালাবদলে ব্যাংক খাতে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে গত ২৯ অগাস্ট এক্সিম ব্যাংকে তাকে বাদ দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে বিএবির নেতৃত্বও হারান তিনি।
এর মাধ্যমে ১৭ বছর পর নজরুল ইসলামের বলয় থেকে বের হয় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির পর্ষদ।
নজরুল ইসলাম ২০০৭ সাল থেকে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন তিনি। আর বিএবির চেয়ারম্যান পদে ছিলেন ২০০৯ সাল থেকে।
বিএবি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার সময় বেসরকারি ব্যাংক থেকে চাঁদা তুলে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
গত ২৫ অগাস্ট নজরুল ও তার স্ত্রী নাছরিন ইসলামের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ রাখতে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ। ব্যাংক থেকে নানা সময় চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তন করে উদ্যোক্তাদের সুবিধা বাড়ানো ও নীতি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে।
আরও পড়ুন-
