Published : 14 Mar 2026, 08:45 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান শরীফ হাদি হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে সীমান্ত পার হতে সহায়তায় নাম আসা ফিলিপ সাংমাকেও গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) বরাতে তাকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গ্রেপ্তারের এক সপ্তাহের মাথায় শনিবার ভোরে (১৪ মার্চ) রাজ্যের শান্তিপুর এলাকা থেকে ফিলিপকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে পত্রিকাটি।
এর আগে গত শনিবার রাতে (৭ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। পরদিন আদালতের নির্দেশে তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এর এক সপ্তাহের মাথায় বনগাঁয়েরই নিকটবর্তী এলাকা শান্তিপুর থেকে ফিলিপকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিল এসটিএফ।
শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে খবরে।
হাদি হত্যায় তদন্তে নেমে বাংলাদেশের পুলিশ এর আগে ফয়সালদের পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমের জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই ফিলিপ সাংমার কথা বলেছিল। তখন তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলেছিল, এই ব্যক্তি সন্দেহভাজন জড়িতদের পালাতে সহায়তা করেছিল।
শনিবার আনন্দবাজার লিখেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তরফে তদন্ত সংশ্লিষ্টারা বলেছেন- ফয়সাল ও আলমগীর এই ‘দালাল ফিলিপের সহায়তায়’ সীমান্ত পার হয়েছিল।
এসটিএফের বরাতে এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদে ফিলিপ সাংমার নাম পাওয়া যায়। ‘এই দালাল’ বাংলাদেশের হালুয়াঘাটে থাকতেন। হাদি হত্যার নাম সামনে আসার পরই ফয়সাল ও আলমগীর যোগাযোগ করেন ফিলিপের সঙ্গে এবং তার সাহায্যেই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়ে ঢুকে পড়েন।
ফিলিপকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখানকার পুলিশের বরাতে আনন্দবাজার আরও লিখেছে, তিনি ‘টাকার বিনিময়ে’ বাংলাদেশের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপার করার কথা স্বীকার করেছেন। একইভাবে ফয়সাল ও আলমগীর তার সাহায্যে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন।
হাদি হত্যার পর সন্দেহভাজনদের ধরতে পুলিশের তোড়জোড়ের মধ্যে ফিলিপও হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, সেখানে গিয়ে দেশটির বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে নিজের অবস্থান পাল্টেছেন ফিলিপ।
বাংলাদেশে আদালতের নির্দেশনার পর বর্তমানে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তবে এ ইউনিটের তরফে ফিলিপের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চব্বিশের আন্দোলন ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ১৬ দিন পর ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দাবি করেছিল, এ মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের সঙ্গে তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে গেছেন।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ফিলিপ নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় তারা দেশ ছাড়েন বলেও জানিয়েছিল ডিএমপি। কিন্তু এমন দাবির মুখে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সেসময় সাফ জানিয়ে দেয় ফয়সাল তাদের দেশে নেই।
প্রায় আড়াই মাস পর গত ৭ মার্চ ভারতের সংবাদমাধ্যমই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ বিজ্ঞপ্তির বরাতে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয়। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকেছিল বলেও জানায়।
ইতোমধ্যে সরকারের তরফে হাদি হত্যার প্রধান দুই আসামিকে দেশে ফেরাতে ‘সর্বোচ্চ তৎপরতার’ কথা জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন-
ফয়সালকে সীমান্ত পার করল কে? রিমান্ড শুনানিতে এল ফিলিপের নাম
অবশেষে ভারত থেকেই গ্রেপ্তার হাদি হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল
হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পিছিয়ে ২ এপ্রিল
হাদি হত্যার আসামিদের ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী