Published : 26 Dec 2025, 06:39 PM
শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম ‘চাঞ্চল্যকর’ তথ্য দিয়েছেন বলে আদালতে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে দুজনকে শুক্রবার আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল আঞ্চলিক টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রুকনুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, “সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম ঘটনার বিষয়ে অনেক ‘গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর’ তথ্য দিয়েছেন।”
তবে কী ধরনের ‘চাঞ্চল্যকর’ তথ্য মিলেছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, আসামিরা ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার ও অবৈধ পন্য চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য ফিলিপের সহযোগী। তারা সম্পর্কে এলাকার চাচাতো ভাই হন।
আবেদনে বলা হয়, ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আসামিরা ভারতে পলায়ন করে থাকতে পারে।
“গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা কৌশলে নিজেদের সম্পৃক্ততা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। মামলার পলাতক আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগি অজ্ঞাতনামা আসামিরা ভারতে পলায়ন করে থাকলে এ আসামিরা পলায়নে জড়িত থাকার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।”
গত ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের দুজনকে আটকের কথা জানায় বিজিবি। জিজ্ঞাসাবাদের পর এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৮ ডিসেম্বর আদালতে তোলা হলে তিন দিনের রিমান্ডে দেওয়া হয় তাদের। ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় দেওয়া হয় পাঁচ দিনের রিমান্ড।
গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটিতে ৩০২ ধারা যুক্ত হয়।
এ মামলায় ১১ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন- ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল ও ফয়সালের সহযোগী মো. কবির।
পালানোয় সহযোগিতাকারী হিসেবে ধরা হয় সিবিউন দিউ, সঞ্জয় চিসিম ও আমিনুল ইসলাম রাজুকে।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় হামলার শিকার হন হাদি। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে বৃহস্পতিবার মারা যান হাদি।