Published : 05 Jun 2026, 02:03 PM
মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিকান অব কঙ্গোর (ডিআরসি) কিভু প্রদেশে ইবোলায় মৃত রোগী সৎকারের একটি দলের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
এর ফলে সৎকারকারী দল একটি কফিন ফেলে চলে যেতে বাধ্য হয়, যা নতুন করে সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় একটি হাসপাতালের প্রধান রয়টার্সকে বলেছেন, সোমবার প্রাদেশিক রাজধানী বুকাবুর প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত কাটানা শহরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ‘সেইফ অ্যান্ড ডিগনিফায়েড ব্যুরিয়াল টিম’। এই দলের সদস্যরা অত্যন্ত সংক্রামক মরদেহগুলো বিশেষ প্রোটোকল মেনে দাফন করার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত, যাতে করে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে।
বুধবার অনলাইনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সৎকারকারী দল কফিন ফেলে চলে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ওই মরদেহটি নিজেদের হাতে ধরেন।
এ ধরনের ছোঁয়াচে রোগাক্রান্ত মৃতদেহ স্পর্শ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা থেকে নতুন করে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বড় আশঙ্কা থাকে।
তবে ঠিক কী কারণে তারা হামলা করেছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা স্পষ্ট করেনি।
কর্মকর্তারা যখন ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন, তখন এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনগণের মধ্যে চরম অবিশ্বাসের বিষয়টিকেই সামনে আনছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৎকারকারী দল এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্রমাগত হামলার শিকার হচ্ছেন। এমনকি ভুক্তভোগীদের আত্মীয়-স্বজনেরাও মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের ওপর চড়াও হচ্ছেন।
একই ধরনের আরেক ঘটনায় গত সোমবার ইতুমি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় একটি কবরস্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা সৎকারকারী দলের ওপর হামলা চালায়। বুনিয়া এলাকাতেই বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।
স্থানীয় এক সাহায্যকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত চারজন আহত হন।
গত ১৫ মে কঙ্গোয় ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৬৩ জন আক্রান্ত এবং ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে আরও ১৯ জন নতুন আক্রান্ত এবং দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এর ফলে ইতুমি প্রদেশের ৩৬টি স্বাস্থ্য জোনের মধ্যে ১৭টিতেই এখন এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভুর বিভিন্ন এলাকাতেও নতুন আক্রান্তের সন্ধান মিলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্তদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং ভাইরাসের বিস্তার রোধে ইবোলা-কবলিত তিনটি প্রদেশজুড়ে ৩০টি স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
তবে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথাও জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতুরির রামপারা এলাকায় আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ৩২ জন ব্যক্তিকে ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর তারা ইবোলামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর কিভুর গোমা শহরে সুস্থ হয়ে ওঠা এক রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ জানিয়েছে, গত ৩ জুন বুনিয়ায় ৩০০ জনকে সৎকারের মত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছেছে।