Published : 09 Oct 2025, 10:32 PM
জাতীয় রাজনীতিতে নারীর 'অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্বের' দাবি উঠে এসেছে এক আলোচনা সভায়।
এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীদের পাশাপাশি অধিকারকর্মী, সংস্কৃতিকর্মীরাও অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটের থ্রি-ডি সেমিনার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় 'সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীরা কোথায়?' প্রতিপাদ্য নিয়ে সম্মেলন।
এ সম্মেলন ভবিষ্যতের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে 'নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম'। তারা এই সম্মেলনের আয়োজকও।
ফোরামের ভাষ্য, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে পূর্ণতা দিতে হলে সংসদকে হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, আর সেই অন্তর্ভুক্তির কেন্দ্রে দেশের ৫১ শতাংশ নারীর ৫০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা কেবল ন্যায়সঙ্গতই নয়, সংবিধানের সমতার নীতির সরাসরি বাস্তবায়ন।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, "ঐকমত্য কমিশন যখন বসে, তারা যখন গ্রুপ ছবি তোলে বা আমরা টেলিভিশনে দেখি, তখন দেখতে ভালো লাগে না; খুবই লজ্জা লাগে। সেখানে নারী খুঁজে পাওয়া যায় না।"
নারীদের বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফরিদা আখতার বলেন, "এখন ফ্লোটিলার কথা সবাই জানেন, আমাদের শহিদুল আলমও সেখানে গেছেন। এই ফ্লোটিলায় কিন্তু নেতৃত্ব দিচ্ছেন একটা মেয়ে- গ্রেটা থুনবার্গ। ফলে মাঝসমুদ্রেও কিন্তু নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইসরায়েলি বাহিনীও তাদের থামাতে পারছে না। আমাদের নারীদেরও থামানো যাবে না।"
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন মুরশীদ বলেন, "শিক্ষা জয় করেছে আমাদের মেয়েরা, সংস্কৃতিতে জয় করেছে আমাদের মেয়েরা। কিন্তু রাজনীতিতে এখনো আমাদের মেয়েরা সামনে কেন এগিয়ে আসতে পারছে না। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।"
আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, "নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সমান অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেকে আছেন, তারাও নিজেদের দলে সেটি নিয়ে কথা বলবেন। নারীদের অধিকার নিশ্চিত করবেন।"
বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, "রাজনৈতিক দলগুলোকে কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আমি সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে, তবে এখনই 'সংরক্ষিত' আসন বাদ দেওয়ার পক্ষে নই।"
জামায়াতে ইসলামীর নেত্রী অধ্যাপক হাবিবা আখতার বলেন, "আমাদের দেশে তো নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও আমরা অধিকার পাইনি। এখন আশা করি, আমরা নারীদের অধিকার আদায় করে ছাড়ব।"
জামায়াতে ইসলামীতে ৪৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ আছে বলেও জানান হাবিবা আখতার। তিনি বলেন, "আমরা যোগ্যতা এবং সম্মান অনুযায়ী সব অধিকার চাই। আমরা ন্যায্যতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।"
সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফা চৌধুরী মনি বলেন, "আমি যখন সংসদ সদস্য ছিলাম। সংরক্ষিত কোটায় এমপি হওয়ায় আমরা দ্বিতীয় শ্রেণির হয়েছিলাম। পুরুষ সংসদ সদস্যরা ৮ মিনিটি কথা বলার সময় পেলে আমরা পেতাম ৪ মিনিট। নামের সঙ্গে সংরক্ষিত ব্যাপারটি সম্মানজনক নয়।"
গণিসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, "রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীর জন্য কতটা পরিবেশ তৈরি করা যায়, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নারী রাজনীতিতে এলে কত ধরনের বুলিংয়ের শিকার হতে হয়, তা তো আমরা দেখছি। নারীর জন্য এখনো পরিবেশ প্রতিকূল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।"
জুলাই আন্দোলনের সংগঠক উমামা ফাতেমা বলেন, "করপোরেট সেক্টর বা রাজনীতিতে নারীরা যেন সিদ্ধান্তগ্রহণের পর্যায়ে না আসতে পারে, তা সুচারুভাবে তৈরি করে রাখা হয়েছে। জুলাই পরবর্তী সময়ে নারীদের যেভাবে 'সাইডলাইন' করে দেওয়া হয়েছে, তাতেই বোঝা যায় নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি।"
জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, "ঐকমত্য কমিশনে কেন নারীদের দেখা যায় না, সেখানকার ছবি যখন দেখি, তাতে মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কোথায়? এর কারণ বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো পেশিশক্তিনির্ভর। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে নারীরা টিকবে না।"
সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাসদের (মার্কসবাদী) মাসুদ রানা, এনসিপির তাজনুভা জাবীন ও হেযবুত তওহীদের রুফায়দাহ পন্নী।
সম্মেলনে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে আছে—