১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর পুলিশের জলকামান, লাঠিপেটা

এ ঘটনায় পাঁচজন শিক্ষক আহত হয়েছেন; কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Mar 2025, 07:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:00 PM

পদযাত্রা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাওয়ার সময় জাতীয়করণের প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাঠিপেটা করে এবং জলকামান ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। 

বুধবার বিকালে কদম ফোয়ারা কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনায় পাঁচজন শিক্ষক আহত হয়েছেন; কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। 

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে তারা পদযাত্রা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষকদের মিছিলটি কদম ফোয়ারা কাছাকাছি গেলে সেখানে অবস্থানে নিয়ে থাকা পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

এসময় শিক্ষকরা সড়কে বসে পড়লে পুলিশ জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে এবং লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শিক্ষকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। 

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ২৫ দিন অবস্থান করেও দাবি আদায়ের বিষয়ে ন্যূনতম আশ্বাস না পাওয়ায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে পদযাত্রা নিয়ে যাচ্ছিলাম। পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। 

"আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে, জলকামান থেকে পানি মেরে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। আমাদের পাঁচজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছিল, তাদের মধ্যে তিনজনকে এখনো ছাড়া হয়নি। আমরা প্রেস ক্লাবের সামনে ফের অবস্থান নিয়েছি।"

তিনি বলেন, "২০১৩ সালে সারা বাংলাদেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও সমযোগ্যতা থাকার পরেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সারা বাংলাদেশের যোগ্য ৪ হাজারের বেশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে যায়। ২০১৫ সাল থেকে আমরা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছি।

"আন্দোলনের ফলে গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে একটি চিঠি মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা হয়। এই চিঠি দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।"