Published : 09 May 2025, 12:50 AM
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সচিব পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে নীতিমালা ভেঙে ঢাকার ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগের ‘সত্যতা পাওয়ার’ কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক আল-আমিনের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালায়। তাতে ফ্ল্যাট বরাদ্দ সংক্রান্ত অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা বলছে দুদক।
সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় অনৈতিকভাবে উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট বরাদ্দের অভিযোগ অনুসন্ধানে অভিযান চালানো হয়। ওই প্রকল্পে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ১৩ নম্বর (নতুন ৬/এ) সড়কের ৭১১ নম্বর (নতুন ৬৩) বাড়িতে ১৮টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৬০ শতাংশ (১২টি) সরকারি ও ৪০ শতাংশ (৬টি) বেসরকারি কোটায় বরাদ্দযোগ্য ছিল।
অভিযানকালে বরাদ্দ সংক্রান্ত অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা বলছে এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযান দলটি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। সেগুলো যাচাইবাছাই শেষে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আকারে দাখিল করা হবে, বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দিনের ভোট রাতে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত’ সচিব পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে ‘পুরস্কৃত করতে’ শেখ হাসিনার আমলে পরিকল্পিতভাবে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়। গত ৫ মে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেল ওই বিষয়ে খবর সম্প্রচার করে। সেটি আমলে নিয়ে দুদক অভিযানে নামে।
টিভি চ্যানেলটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ধানমন্ডি-৬ এর প্লট নম্বর ৬৩ মূলত সরকারি খাস জমি, যার বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে এই জমি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখানে ১৪ তলা একটি ভবন নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ভবনটিতে রয়েছে দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট ও নিচতলাসহ দুই তলা গাড়ি পার্কিং। ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট দুটি বরাদ্দ দেওয়া হয় দুদকের সাবেক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান এবং জহরুল হকের নামে।
অন্য ১০টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ হয় সাবেক সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, কাদের সরকার, এম আসলাম আলম, আকতারী মমতাজ, মো. সিরাজুল হক খান, মো. মনজুরুল বাছির, সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, এম গোলাম ফারুক ও আনিছুর রহমানের নামে।