Published : 27 Aug 2022, 10:30 PM
টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলার আট বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে এখনও প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
২০১৪ সালের আলোচিত এ খুনের ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডির নয়জন কমকর্তা পরিবর্তন হয়ে এবার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিসানুল হক।
তিনি বলেন, “আমি এ মামলার দশম আইও (তদন্ত কর্মকর্তা)। এ মামলায় আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর একজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
“আমরা হত্যাকারী কারা, তা বের করতে পেরেছি। হত্যার কারণও বের করতে পেরেছি। তাড়াতাড়ি অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে।”
২০১৪ সালের ২৭ অগাস্ট রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ইসলামী বক্তা এবং ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা ফারুকীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার ছেলে একটি মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু দীর্ঘদিনেও মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। বর্তমানে এটি সিআইডির তদন্তাধীনে রয়েছে।
সবশেষ গত ৭ অগাস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তা দাখিল করতে পারেননি। এ নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৬২ বার সময় নেয় তদন্ত সংস্থা।
এখন আগামী ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ঠিক করা রয়েছে। তবে ওই দিনও তা উপস্থাপন করা হবে কি না তা নিয়ে বরাবরের মত সংশয় ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকীর।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আট বছর হল বাবা খুন হয়েছেন। কিন্তু এখনও মামলার তদন্তই শেষ হল না। থানা পুলিশ, ডিবির হাত ঘুরে এখন মামলার তদন্তে আছে সিআইডি।
“একের পর এক তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হচ্ছে কিন্তু তদন্ত শেষ হচ্ছে না। আমরা নতুন তদন্ত কমকর্তাদের বারবার একই তথ্য দিয়ে যাচ্ছি। ছয় মাস আগে আমার মামাতো ভাই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মারুফ হোসেনকে নতুন তদন্ত কমকর্তারা ডেকেছিলেন। তারপর সব নীরব।”
তার ভাষ্য, “ধর্মীয় মতবিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমাদের মনে হয়েছে।
“আমরা এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে কয়েকটি অনলাইন ভিডিও চিত্র জমা দিয়েছি। হত্যাকাণ্ডে একটি ছাত্র সংগঠন থেকেও মামলা করা হয়। সেখানে কয়েকজনে নাম এজহারে সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা আছে। আমার বাবার হত্যার ঘটনার আগে গোপীবাগে একটি দরবার শরীফে পীরসহ ছয় হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করি।”
২০১৪ সালের অগাস্টে রাত ৯টার দিকে নিজ বাসায় ফারুকীকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার পর রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফারুকীর বাসায় কলিং বেল দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসার দরজা খুললে দুজন লোক প্রবেশ করে তার সঙ্গেই ড্রয়িং রুমে বসেন। কিছুক্ষণ পর আরও ৬/৭ লোক প্রবেশ করে। বসার জায়গা না থাকায় ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। ফিরে এসে দেখেন ফারুকীর মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রেখেছে তারা। পরে বাসার সবাইকে বেঁধে ফারুকীকে হত্যা করে নগদ টাকা, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যামেরা নিয়ে চলে যায়।
নিহত ফারুকী চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কাফেলা’ ও ‘শান্তির পথে’, মাই টিভির লাইভ অনুষ্ঠান ‘সত্যের সন্ধানে’ এর উপস্থাপক ছিলেন। এছাড়া তিনি ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব ছিলেন ফারুকী।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তারা হলেন- হাদিসুর রহমান সাগর, আবু রায়হান, আব্দুল গফ্ফার, মিঠু প্রধান, খোরশেদ আলম, রিয়াজ ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ, তারিকুল ইসলাম ওরফে মিঠু, কাজী মো. ইব্রাহিম, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব গান্ধী, জাহিদুল ইসলাম সোহাগ, বাপ্পী মিয়া, আব্দুল্লাহ আল তাসনিম, রাইসুল ইসলাম, আলেক ব্যাপারী, মোস্তফা আহমে ও মোজাফ্ফর হোসেন ওরফে সাঈদ।
আসামিদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে এবং ৬ জন জামিনে আছেন।