Published : 24 Jun 2026, 04:23 PM
জন্মদিন মানে, অনেকের কাছে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবের সাথে হৈ-হুল্লোড় মেতে থাকা, কেট কাটা, খাওয়াদাওয়া আর উৎসব-আনন্দে ইচ্ছেমতো সময় কাটানো। কিন্তু লিওনেল মেসির সে সুযোগটা কই? ১৮ বছর বয়স থেকে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন, সেই থেকে যে এ পর্যন্ত দলের সঙ্গেই তিনি পার করে দিলেন ১৩টি জন্মদিন।
৩৯তম জন্মদিনের গল্পটাও একই রকম। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা নোঙর ফেলেছে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে। মেসি দলের প্রাণভোমরা। ইচ্ছেমতো উৎসবের ফুসরত কোথায় তার? বিশ্বকাপের ব্যস্ততার ফাঁকে, যা একটু উদযাপন।
কোনো প্রতিযোগিতায় আর্জেন্টিনায় অংশগ্রহণ মানে যেন, ওই সময় মেসির জন্মদিনটাও এসে যাওয়া! যার শুরুটা হয় ২০০৫ সালে।
সেবার নেদারল্যান্ডসে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ খেলতে যায় আর্জেন্টিনা। ১৮ বছর বয়সী মেসি ওই আসরে সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। আর্জেন্টিনা জেতে শিরোপা। জন্মদিনও আসে টুর্নামেন্ট চলাকালে।
২০০৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলে ডাক পান মেসি। পরিবার-পরিজন ছেড়ে জন্মদিনের উদযাপন তিনি সারেন জার্মানিতে। সেবারের স্মৃতিগুলোর একটি- হুয়ান রোমান রিকুয়েমের সঙ্গে ছবি তোলা, ২৪ জুন ছিল রিকুয়েমেরও জন্মদিন। ওই দিন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামেন মেসি।
২০০৭ সালে কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট চলাকালে আসে মেসির জন্মদিন। রিকুয়েমেরও। সেদিন ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচ ছিল আর্জেন্টিনার। গোল করে নিজেকে জন্মদিনের উপহার দিয়েছিলেন মেসি। সেবারই প্রথম আর্জেন্টিনার হয়ে কোনো ফাইনালে হারেন তিনি।
পরের টানা তিন বছর আর্জেন্টিনার টুর্নামেন্টে খেলার সময় পড়েনি মেসির জন্মদিন। ইচ্ছেমতো উদযাপন করতে পেরেছিলেন তিনি।
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ফিরে আসে তা। মেসি আরও একবার জন্মদিন কাটান পরিবারের বাইরে। মেসির সেই জন্মদিনে ছিলেন দিয়েগো মারাদোনা, তখন এই কিংবদন্তি আর্জেন্টিনার কোচ।
২০১১ সালের জন্মদিনও মেসি পার করেন জাতীয় দলের সঙ্গে। তবে, এবার একটু আলাদা। কোপা আমেরিকার ব্যস্ততা ছিল, কিন্তু এই প্রথম আর্জেন্টিনার সঙ্গে আর্জেন্টিনাতেই কাটান সময়টুকু।
এরপর ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপ চলাকালে আস মেসির জন্মদিন। ওই আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান, কিন্তু ‘সেরা উপহার’ হাতে ধরা দেয়নি। জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় পোড়েন তিনি।
পরের দুই বছর, কোপা আমেরিকার টুর্নামেন্ট চলাকালে জন্মদিন এলো-গেল, কিন্তু উপলক্ষ্যটা মেসির জন্য হতাশারই রয়ে গেল। ২০১৫ সালে চিলিতে এবং ২০১৬ সাথে যুক্তরাষ্ট্রে- ফাইনালে হারল আর্জেন্টিনা।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে জাতীয় দলের সঙ্গে মেসি পার করেন আরেকটি জন্মদিন। হোর্হে সাম্পাওলি তখন কোচ। জন্মদিন উযপানের ছয় দিন পর, ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে হারে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার ডাগআউট ছাড়েন সাম্পাওলি। তার সহকারী লিওনেল স্কালোনি অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দলের হাল ধরলেন।
স্কালোনি স্থায়ী কোচ হলেন আর্জেন্টিনার। তার কোচিংয়ে ২০১৯ কোপা আমেরিকা খেলতে চিলিতে গেল আর্জেন্টিনা। দলের সঙ্গী মেসি। টুর্নামেন্টে মাঝপথে এলো তার আরেকটি জন্মদিন। ওই আসরে বিতর্কিত রেফারিংয়ে সেমি-ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের কাছে হারে আর্জেন্টিনা, টুর্নামেন্ট শেষ করে স্বাগতিক চিলিকে হারিয়ে, তৃতীয় হয়ে।
নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর দুঃসময় পার করে ২০২১ সালে মাঠে গড়ায় কোপা আমেরিকা। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই ব্রাজিলের ওই আসরে মেসির জন্মদিন উদযাপন করেন সতীর্থরা। ওই টুর্নামেন্টে মেসি ও সের্হিও আগুয়েরো থাকতেন এক রুমে। কেক, উপহার নিয়ে সতীর্থরা মাঝরাতে রুমে এসে তাদের চমকে দেন। ব্রাজিল থেকে শিরোপা নিয়ে ফেরে আর্জেন্টিনা।
মেসির জন্মদিনের স্মৃতি নিয়ে একটি তথ্যচিত্রে লেয়ান্দ্রো পারেদেস বলেন, “আমরা ঘরের মধ্যে ছিলাম, ভাবছিলাম মেসিকে কী দিতে পারি। ওই সময় কোভিডের কারণে মাঠে কোনো কিছুই আনা যেত না, কিছু রেখে দেওয়া যেত না। তাই মাঝরাতে ওভাবে তাকে চমকে দিয়েছিলাম।”
ওই মুহূর্তটি নিয়ে মেসি বলেছিলেন, “আমি ততক্ষণে বিছানায় চলে গিয়েছি, ঘুমাতে চাইছি এবং মাঝরাতে ওরা সবাই এসে হাজির। মনে নেই, সবাই আমাকে কী কী উপহার দিয়েছিল, কিন্তু সবই ছিল ছোট-ছোট জিনিস।”
২০২৪ সালের জন্মদিনও মেসি পার করেন কোপা আমেরিকার আরেকটি আসরে, আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে। সেটি ছিল তার ৩৭তম জন্মদিন এবং ক্যাম্পে কাটানো ১২তম। লেয়ান্দ্রো পারেদেস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, আনহেল দি মারিয়া, রদ্রিগো দে পল, মারিও দে স্তেফানো (কিটম্যান), শিওভানি লো সোলসো ও নিকোলাস ওতামেন্দিদের নিয়ে হোটেল রুমে উদযাপন করেন জন্মদিন।
২৪ জুন, ২০২৬। মধ্যরাতে, আর্জেন্টিনা দলের এক্স-একাউন্টে মেসিকে তার অর্জনের তালিকা ছাপিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। মহাতারকার আরেকটি জন্মদিন কাটছে জাতীয় দলের সঙ্গে।