২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

দ্রুত বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের আহ্বান জাতীয় সংলাপে

আইনে বৈষম্যের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং সহজে অভিযোগ দাখিলের ব্যবস্থা থাকা উচিত বলেও মত দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Jun 2026, 07:13 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

দেশের সব নাগরিকের সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা জোরদারে দ্রুত একটি সমন্বিত বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের দাবি তুলেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সারিনায় ‘বৈষম্যবিরোধী আইন’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এ দাবি তুলে ধরেন।   

নাগরিক উদ্যোগ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ), বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের বঞ্চনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। 

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, “দলিত, চা শ্রমিক, বেদে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও জেন্ডার বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় এখনও কাঠামোগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার। সংবিধানে সমতার অঙ্গীকার থাকলেও এসব বৈষম্য প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য দেশে এখনও কোন সমন্বিত আইন নেই।”

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, “শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। বৈষম্যের শিকার মানুষ যাতে সহজে আইনি প্রতিকার পায়, সে জন্য সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রয়োজন।” 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ এবং সংসদবিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং সংবিধানের মূল চেতনা বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োজন। আইনে বৈষম্যের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং সহজে অভিযোগ দাখিলের ব্যবস্থা থাকা উচিত।” 

আইন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা জজ) নয়ন বড়াল বলেন, “প্রস্তাবিত আইনে ক্ষতিপূরণের বিধানের পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্যমূলক চর্চা পরিবর্তনের কার্যকর ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী তদারকি কাঠামো থাকা প্রয়োজন।” 

সংলাপে সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজঅ্যাবিলিটির (সিএসআইডি) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জাহুরুল আলম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিচারপ্রাপ্তির জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। অন্যদিকে দলিত ও বঞ্চিত অধিকার আন্দোলনের সভাপতি উত্তম কুমার ভক্ত তুলে ধরেন দলিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক বঞ্চনার বিভিন্ন দিক। 

সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক উদ্যোগের চেয়ারপারসন মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, “সংলাপে উঠে আসা অভিজ্ঞতা ও সুপারিশগুলো প্রস্তাবিত আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” 

তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে দ্রুত বৈষম্যবিরোধী আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান করেন।