Published : 12 Dec 2021, 08:56 PM
গত বছর ৪ ডিসেম্বর রাজশাহী নগরের নিউমার্কেট এলাকায় ‘হাইড আউট ক্যাফে’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় নিজের কক্ষ থেকে শুভর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন।
শাহিন আলম শুভর (২৫) রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নুরপুর গ্রামের মাহাবুর রহমানের ছেলে। তিনি রাজশাহী কলেজে ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। দিনমজুর বাবার ছেলে শুভ লেখাপাড়ার পাশাপাশি হাইড আউট ক্যাফেতে প্রধান শেফ পদে কর্মরত ছিলেন।
রাজশাহীর এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর মেয়েকে বিয়ে করার ২৬ দিন পর শুভর মৃত্যু হয়।
এই বিয়ের কারণে শুভকে হত্যা করা হয় বলে তার বাবার করা মামলায় অভিযোগ করা হয়। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।
মাহবুর রহমান মামলায় অভিযোগ করেন, রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ‘ড্যাস কালেকশন’-এর মালিক আলমগীর হোসেনের মেয়ে এহিদিন নেসা গত বছরের ৪ নভেম্বর শুভর সঙ্গে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। এর ২৬ দিন পর হাইড আউট ক্যাফেতে শুভর রুমে তাকে ‘হত্যা’ করা হয়। ওই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ক্যাফে বন্ধ ছিল।
মাহবুর রহমানের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রথমে এটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করলেও এক মাস আটদিন পর [চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি] হত্যা মামলা নেয় পুলিশ। মামলায় আসামি করা হয়েছে শুভর স্ত্রী এহিদিন নেসা, হাইড আউট ক্যাফের শেফ কাওসার ও মালিক সায়েমকে।
মাহবুর রহমান আর বলেন, “ঘটনার দিনের হাইড আউট ক্যাফের সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু সিসিটিভির হার্ডডিক্সে এক ঘণ্টার ফুটেজ উধাও হয়ে গেছে।”
ওই ফুটেজ পাওয়া গেলে হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত সেটি পাওয়া যেত বলে মনে করেন মাহবুর রহমান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী সিআইডির পরিদর্শক শাজাহান আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সংগ্রহ করা আলামতগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে এখনও জানানোর মত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তিনি বলেন, এ মামলার তিনজন আসামির মধ্যে কাওসার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে কাওসারসহ তিন আসামি হাই কোর্ট থেকে জামিনে আছেন। তবে তাদের কল রেকর্ডগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।