“দেশের জনগণের সমর্থন ও সহায়তা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ দুরূহ,” বলেন তিনি।
Published : 05 Dec 2024, 12:56 PM
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের কাছে পুলিশের তরফে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন বাহিনীর প্রধান বাহারুল আলম।
বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এই আন্দোলনের সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের সহায়তায় পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা আইন ভঙ্গ করেছেন ও বাড়াবাড়ি করেছেন।
“নিরপরাধ পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছেন। আমি পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
গত ২০ নভেম্বর পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পান চার বছর আগে অবসরে যাওয়া বাহারুল আলম। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন।
বাহারুল আলম বলেন, “আমি সেদিন নিটোরে (পঙ্গু হাসপাতাল) গেলাম। আমাকে বলছে, ‘স্যার আমাকে কেন গুলি করলেন? আমি তো শুধু ভ্যান চালাই। আমি তো কোন সাতে-পাঁচে নাই।’
“এই প্রশ্ন শুনে আমার তো কোনো জবাব নেই। আমি বলেছি, ‘আমার কোনো জবাব নেই, আমি তোমার কাছে শুধু ক্ষমা চাইতে এসেছি।”
গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বেশির ভাগ থানায় হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার খবর আসতে থাকে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় অন্তত ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
এসব হামলায় নথিপত্র, আসবাবপত্রের পাশাপাশি পুড়ে গেছে থানায় থাকা সব গাড়ি। লুট হয়ে গেছে অনেক অস্ত্র ও গুলি।
আইজিপি বলেন, “৫ অগাস্টের পর পুলিশের সম্পত্তি ও জীবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারের সহায়তায় আমরা পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রমে গতিশীলতা নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।
“দেশের জনগণের সমর্থন ও সহায়তা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ দুরূহ। আমি সবিনয়ে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”
পুলিশ প্রধান বলেন, “আইনি সেবা প্রত্যাশী জনগণের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করতে হবে। অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ কাজ করবে, তল্লাশি চালাবে।”
অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ সংস্কারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ সংস্কারের সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে এই বাহিনী প্রকৃত অর্থেই জনবান্ধব হয়ে উঠবে বলে বিশ্বাস করি।”