Published : 17 Mar 2026, 06:30 PM
ঢাকার উত্তরা স্কয়ার শপিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন-মো. মনির আলম (৩২), মো. মজিবর রহমান (২০), মো. হৃদয় (১৯), মো. মঞ্জুরুল (৩২), মো. মহব্বত আলী (১৮), শাহ পরান (১৯), মো. শাকিল (১৯), মো. রশিদুল ইসলাম ওরফে রশিদ (২৭), মো. সাজু (২৪), মো. লিটন (২৪) ও জিহাদ (১৯)।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. শামীম হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
রোববার রাতে ১৩ নম্বর সেক্টরের উত্তরা স্কয়ার শপিং কমপ্লেক্স ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধ রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা দফায় দফায় হামলা চালায়।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় মার্কেটের সামনে একটি রিকশা পার্কিংকে কেন্দ্র করে, তার জেরে সংঘর্ষে ছয়জন পুলিশ আহত হয়েছে।
সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় সোমবার উত্তরা পশ্চিম থানায় অচেনা ৭০০ ব্যক্তি আসামি করে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় সে দিনে রাতে পুলিশের তরফে ৫ জনকে গ্রেপ্তার ও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দেওয়া হয়।
অন্যদিকে ওই দিন কমপ্লেক্সটির ইলেক্ট্রিশিয়ান আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. সুমন মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আসামিদের পক্ষে দিলীপ কুমার সরকারসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিলের পাশাপাশি তদের জামিন প্রার্থনা করেন।
তারা আদালতে দাবি করেন, এখানে থাকা আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, এমন কোনো প্রমাণ নেই। আসামিদের মধ্যে কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ দিনমজুর। এদের ঘটনাস্থলে আসা যাওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
তারা বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা তা বলতে পারেননি। কিছু উদ্ধার নেই।
আইনজীবীরা আদালতে বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা জামিনযোগ্য।
শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেককে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সোনারগাঁও জনপদ রোডে উত্তরা স্কয়ার শপিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের সামনে এক রিকশাচালকের সঙ্গে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীর কথা কাটাকাাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই রিকশাচালক ও তার সঙ্গে থাকা আরও ১৫/২০ জন অজ্ঞাতনামা রিকশাচালক মিলে নিরাপত্তারক্ষী ও শপিং কমপ্লেক্সের লোকজনের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের এলোপাথাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে।
পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে প্রায় ৬০০/৭০০ জন উত্তেজিত লোক লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে শপিং কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কমপ্লেক্সের নিচতলা ও দোতলার গ্লাস ভাঙচুর করে। এ সময় সুযোগ বুঝে আসামিরা শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত ‘খাজানা ভ্যারাইটিজ স্টোর’ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল এবং ‘কে জেড ইমিটেশন জুয়েলারি’ দোকান থেকে ৫ লাখ টাকার গয়না ‘লুট’ করে নিয়ে যায়।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
কমপ্লেক্সের প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে মামলায়।