১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এসএসএফ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ইউনূস ‘আইন ভাঙেননি’: শফিকুল

শফিকুল আলম বলছেন, এ বিষয়টিকে ‘অস্বাভাবিক বা নজিরবিহীন কোনো পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই।

এসএসএফ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ইউনূস ‘আইন ভাঙেননি’: শফিকুল
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Mar 2026, 07:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:04 PM

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার বিদায়ের পর এক বছরের জন্য এসএসএফ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ‘কোনো আইন ভঙ্গ করেননি’ বলে দাবি করেছেন তার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এসএসএফের প্রক্রিয়াগত প্রয়োজনীয়তার কারণে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়েছে, কেননা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এসএসএফ কোনো সাবেক সরকারপ্রধানকে নিরাপত্তা দেয় না।”

শফিকুল আলম বলছেন, এ বিষয়টিকে ‘অস্বাভাবিক বা নজিরবিহীন কোনো পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। 

এ দাবির পক্ষে ২০০১ সালে দায়িত্ব ছাড়ার আগে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমানের প্রশাসন থেকে জারি করা একই ধরনের একটি আদেশের কপি ফেইসবুক পোস্ট করেছেন সাবেক প্রেস সচিব। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক গেজেটে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘ভেরি ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন’ বা ভিভিআইপি ঘোষণা করা হয়।

ওই গেজেটে বলা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১ এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী এ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিনি এক বছরের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স এসএসএফের নিরাপত্তা পাবেন।

ওই আইনের ২(ক) ধারায় বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের পাশাপাশি সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার ঘোষিত অন্য কোনো ব্যক্তিকেও ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। 

আইন অনুযায়ী বিদায়ী সরকারপ্রধানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএসএফ নিরাপত্তা দেওয়া হয় না; গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি হলে তবেই তা কার্যকর হয়।

শফিকুল আলম ‘কোনো আইন ভঙ্গ হয়নি’ বলে দাবি করলেও অন্তর্বর্তী সরকার যে বিষয়টি গোপন করে যেতে চেয়েছে, তাদের কর্মকাণ্ডেই তা স্পষ্ট।  

সরকারি গেজেট সাধারণত বাংলাদেশ গভার্নমেন্ট প্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু ১০ ফেব্রুয়ারির ওই গেজেট সেখানে প্রকাশ করা হয়নি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গভার্নমেন্ট প্রেসের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১০ ফেব্রুয়ারি জারি হওয়া গেজেটটি গভার্নমেন্ট প্রেসে মুদ্রিত হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পাঠানো নথির ভিত্তিতে।

তিনি বলেন, “ওইটা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এসেছিল। তাদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি।”

সরকারি কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, গেজেট আকারে জারি করা আদেশ বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর ও সর্বসাধারণের জন্য প্রামাণ্য নথি হিসেবে বিবেচিত হয়। গেজেট প্রকাশ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন এবং স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

গেজেট ওয়েবসাইটে প্রকাশ না হলে তা কার্যকারিতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে কি না জানতে চাইলে উপ পরিচালক বলেন, কোন গেজেট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, আর কোনটি হবে না, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের।

“যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা থাকে যে এটি প্রকাশ করা যাবে না, তাহলে আমরা ওয়েবসাইটে দিই না।”

পুরনো খবর

নিজেকে এক বছরের জন্য 'ভিভিআইপিঘোষণা করে গেছেন ইউনূস