Published : 30 Jul 2025, 01:27 PM
সংসদীয় আসনের জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যাসহ সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরে ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কারিগরি কমিটির এই প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়েছে মঙ্গলবার। এখন ইসির অনুমোদন পেলে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
তবে কতটি আসনে পরিবর্তন আসছে সে বিষয়ে ইসির পর্যালোচনার আগে কিছু বলতে নারাজ সংশ্লিষ্টরা।
তবে এর আগে জনসংখ্যা ও ভোটার সমতার সমন্বয় রেখে কাজ করতে গিয়ে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভবনা নেই বলে আভাস দিয়েছিলেন বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
বুধবার কারিগরি কমিটির আহ্বায়ক ইসির সিস্টেম ম্যানেজার রফিকুল হক বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে প্রতিবেদন দিয়েছি। সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী আমরা বিদ্যমান ৩০০টি সংসদীয় আসনের জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যাসহ সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরে আগের সীমানা যাচাই-বাছাই করেছি এবং কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছি।”
মধ্য জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাসহ ভূগোলবিদ, মানচিত্রকার, পরিসংখ্যানবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, তথ্য প্রযুক্তিবিদ, জনসংখ্যাবিদ নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি সাত দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বাধীন সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল।
কারিগরি কমিটির আহ্বায়ক ইসির সিস্টেম ম্যানেজার রফিকুল হক জানিয়েছেন, কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনটি এখন ইসির নেতৃত্বাধীন কমিটি পর্যালোচনা করবে এবং ইসি সচিবালয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি মঙ্গলবার বিকালে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করে। তারপরই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কারিগরি কমিটি।
এবার স্বল্প সংখ্যক সংসদীয় আসনে পরিবর্তন চায় ইসি
কারিগরি বিশেষায়িত কমিটির কাজের অগ্রগতি ও সীমানা নির্ধারণের গতবারের আসন থেকে এবার কেমন পরিবর্তন আসতে পারে-জানতে চাইলে গেল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “এ পর্যন্ত (গত দুই বছরে) প্রশাসনিক বিন্যাসগুলোর সীমানা নির্ধারণে বিবেচনায় আনতে হবে।
“সেজন্য কিছু বা সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে কয়েকটি আসনে। জনসংখ্যা ও ভোটার সমতার সমন্বয় রেখে কাজ করতে গিয়ে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভবনা নেই।”
এ কমিশনারের মতে, এবার সংসদীয় আসণে ছোট পরিসরে পরিবর্তন আসছে। কিন্তু কটি আসনে পরিবর্তন হচ্ছে তা কমিশনের অনুমোদনের উপর নির্ভর করবে।
বিশেষায়িত কমিটির প্রতিবেদন প্রথমে সীমানা সংক্রান্ত কমিটির আছে আসবে। এ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার জন্য কমিশন সভায় উপস্থাপন করবে ইসি সচিবালয়।
কমিশনের অনুমোদন পেলে কটি আসনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে তা সবার কাছে তুলে ধরা হবে।
নির্বাচন কমিশনে ইতোমধ্যে ৭৬টি আসনের বিষয়ে ছয় শতাধিক সীমানা সংক্রান্ত দাবি-আপত্তিও জমা পড়েছে। কবে নাগাদ এ সব নিষ্পত্তি করা হবে সে বিষয়ে এখনও কিছু সিদ্ধান্ত আসেনি।
এর আগে ১০ জুলাই নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছিলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জনসংখ্যার ভারসাম্য আনার পাশাপাশি ভোটার সংখ্যার সমতা এনে আসন বিন্যাসের কথা তুলে ধরেন তিনি। বিশেষায়িত কমিটির মাধ্যমে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে বাস্তবতার নিরিখে কতটুকু করা যাবে, তা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
গত চার নির্বাচনে যত আসনে পরিবর্তন
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ১২টি আসনে পরিবর্তন: সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ৩৮টি আসনে দাবি-আপত্তির আবেদন এলেও, ১০-১২টি আসনের বিষয়ে যুক্তিতর্ক ও বিশ্লেষণই বেশি আমলে নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
এক ডজন আসনে সামান্য পরিবর্তন এনে গেজেট হয় ২০২৩ সালের ৩ জুন।
একাদশে ২৫টিতে: একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালে খসড়া প্রকাশ করে দাবি-আপত্তি ও নিষ্পত্তি শেষে ৩০ এপ্রিল তিনশ আসনের গেজেট হয়।
খসড়ায় ৪০ আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করে; পরে ২৫টি আসনে ছোটোখাটো পরিবর্তন আনা হয়।
দশমে অর্ধশত আসনে: দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ৮৭টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করে ইসি। এ খসড়া প্রস্তাবের ওপর দাবি-আপত্তি শুনানি শেষ হয় এপ্রিলে।
সব বিষয় পর্যালোচনা করে ৫০টি আসনে ছোটোখাটো পরিবর্তন করে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নবম সংসদে শতাধিক আসনে পরিবর্তন : ২০০৮ সালে সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। ওই বছর নবম সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৩৩ আসনে সীমানা পরিবর্তনের প্রস্তাব করে ইসি।
সে সময় আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যার আনুপাতিক হার মেনে আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে জিআইএস পদ্ধতি অনুসরণ করে শতাধিক সংসদীয় আসনে পরিবর্তন আনে।
>> ১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ মোটামুটি একই পদ্ধতিতে হয়।
>> ২০০৮ সালে সীমানা নির্ধারণে জনসংখ্যার ঘনত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল।
>> নবম সংসদ নির্বাচনের সময়, কোনো জেলার আসনসংখ্যা দুটির কম হবে না, পার্বত্য তিন জেলায় একটি করে এবং ও ক্ষুদ্র জেলা মেহেরপুরে দুইটি আসন বরাদ্দ রাখা হয়। ঢাকায় ১৩টি থেকে আসন হয় ২০টি।
১৯৮৪ ও ১৯৯১ সালের পর ২০০৮ সালে সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। দুই বছরের সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ব্যাপক সংস্কার আনা হয় নির্বাচনী সব আইনে।
এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও সংস্কার কমিশনের সুপারিশের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পরামর্শে এবার বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হয়।
এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন বিশেষায়িত কমিটির প্রতিবেদন পেলে সীমানা নির্ধারণের খসড়া এবার তুলে ধরবেন।
আসন সীমানা: ইসির বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি
আসন সীমানা: ভোটার সংখ্যা নাকি জনসংখ্যা, কীসে গুরুত্ব?