Published : 31 May 2026, 09:19 PM
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা এবং সুরক্ষা অব্যাহত রাখতে ২০ লাখ ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ফিনল্যান্ড সরকার।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, নতুন বরাদ্দকৃত এই অর্থ দিয়ে ইউএনএইচসিআর দক্ষতা বৃদ্ধি ও টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরির মতো কাজে যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করতে পারবে।
মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসার প্রায় এক দশক পরও ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশে বসবাস করছে। জীবিকার সীমিত সুযোগের কারণে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা মূলত ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ শরণার্থী পরিবার কাজের বিনিময়ে অর্থ আয় করেছে, যা একমাত্র অনুমোদিত আনুষ্ঠানিক জীবিকামূলক কার্যক্রম।
৪২ শতাংশ পরিবারের আয়ের উৎস ছিল অস্থায়ী ও অনিশ্চিত। আর ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো আয়ের উৎস না থাকায় তারা সম্পূর্ণভাবে সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
“তহবিল হ্রাস পাওয়ায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেমন, নারী ও কন্যা সন্তান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে আসা প্রায় দেড় লাখ নতুন আসা ব্যক্তি, যারা ইতোমধ্যে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে জায়গার অভাবে এখনও আশ্রয়হীন রয়েছেন।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, "রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার প্রচেষ্টা এখন একটি নাজুক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে — যা ক্রমাগত কমতে থাকা তহবিল, ক্যাম্পের অবনতিশীল পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান সুরক্ষা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারে চলমান অস্থিতিশীলতার প্রমাণ। এই পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের বর্ধিত প্রতিশ্রুতি তাদের অসাধারণ উদারতার প্রমাণ।"
নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, "ফিনল্যান্ড বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পরও রোহিঙ্গা জনগণ এখনও তাদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।"
ফিনল্যান্ডের এই অনুদান এমন এক সময়ে এল, যখন জাতিসংঘ ও এর মানবিক অংশীদাররা ৭১ কোটি ডলারের হালনাগাদ আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছে।
২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীসহ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০২৫ সালের জেআরপি থেকে ২৬ শতাংশ কম এই আবেদন শুধু জীবন রক্ষাকারী সহায়তা টিকিয়ে রাখার ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তাটুকুই মেটাবে।
বছরের মাঝামাঝি এসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তায় এই আবেদনের ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ অর্থায়ন হয়ে গেছে।