Published : 13 Jun 2026, 10:12 PM
বৈষম্য, বঞ্চনা ও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলে নতুন কর্মসূচি দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্মীরা।
তবে ধর্মঘট বা কর্মবিরতিতে না গিয়ে প্রতি কর্মদিবসে এক ঘণ্টা করে বেশি কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
শনিবার সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। এতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সঙ্গে বিদ্যমান বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসানের দাবির পাশাপাশি সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং গ্রাহকসেবা ও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সমিতির হিসাবে, এর মাধ্যমে জাতীয় সেবায় অতিরিক্ত ৭ লাখ ৮২ হাজার কর্মঘণ্টা যুক্ত হবে।
সংগঠনটির দাবি, অতিরিক্ত কাজের ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন, বকেয়া বিল আদায় বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের তদারকি আরও জোরদার হবে।
সমিতির নেতারা বলেছেন, এটি মূলত তাদের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি প্রতিবাদী কর্মসূচি।
সংগঠনটির নেতা ও সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মাহবুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা জনগণকে এবং সরকারকে বোঝাতে চাচ্ছি যে আমরা কাজ করতেই চাই। কিন্তু কাজের পরিবেশটা যেন ঠিক করা হয়, সরকারের সুদৃষ্টি যেন আসে।”
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০২৪ সালের শুরু থেকে আরইবির সঙ্গে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও বৈষম্যের বিষয়ে আন্দোলন করে আসছেন বলে জানান তিনি।
মাহবুবুর রহমান বলেন, “২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে বৈষম্যবিরোধী পল্লী বিদ্যুৎ আন্দোলনের কর্মসূচি চলছিল। তখন গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্য এবং পল্লী বিদ্যুতের ভঙ্গুর বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে গ্রাহকরা ব্যাপক ভোগান্তিতে ছিলেন।”
তিনি বলেন, গ্রাহকদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ চাকরিচ্যুত হন।
“অফিসার, সুপারভাইজার, লাইনম্যান, মিটার রিডারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন চাকরি হারিয়েছেন। পরে এসব বিষয় নিয়ে একাধিক কমিটি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও কমিটি হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে বিদ্যুৎ বিভাগ চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের নির্দেশনা দিয়েছে।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্দোলনের জেরে শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রত্যাহারে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগ নির্দেশনা দেয়। এছাড়া চাকরিচ্যুত ৪৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালের নির্দেশনাও দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি।
তবে এসব নির্দেশনা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ সমিতির নেতাদের।
সংগঠনটির অভিযোগ, আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ কর্মস্থল থেকে ৪০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে বদলি করা হয়েছে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, “লাইনম্যানদের এত দূরে বদলির কোনো নিয়ম নেই। নতুন জায়গায় গিয়ে তারা লাইন চিনতে সমস্যায় পড়েন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং গ্রাহকসেবা দিতেও বিলম্ব হয়।”
তিনি বলেন, এসব ঘটনার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় তারা ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা।
অতিরিক্ত কাজের কর্মসূচি প্রসঙ্গে মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো গ্রাহক ভোগান্তি চাই না। বরং জুন মাসে যেন বেশি রাজস্ব আদায় হয়, বেশি গ্রাহকসেবা দেওয়া যায়, সেজন্য অতিরিক্ত কাজের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে সমিতি বলেছে, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর ন্যায়সঙ্গত সমাধান হলে পল্লী বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা, গ্রাহকসেবার মান এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি আরও বাড়বে।