Published : 10 Jun 2026, 05:48 PM
রাজধানীর মৌচাক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ছুরি মেরে হত্যার মামলায় দুই আসামিকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।
আসামিদের মধ্যে রিয়াজুল হাসানকে পাঁচ দিনের এবং আল আমিন মাহিনকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার ইন্সপেক্টর আতিকুল আলম খন্দকার এ দিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
নিহত বিল্লাল রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, পরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সোমবার রাত ৮টার দিকে সালিশের কথা বলে মৌচাকের আনারকলি মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ডেকে নিয়ে তাকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন মঙ্গলবার রমনা মডেল থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
খুনের ঘটনায় সোমবার রাতেই ঢাকা থেকে আল আমিনকে ও রিয়াজুলকে মুন্সিগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশ।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিল্লাল খাবার হোটেলের ব্যবসা করতেন। বিল্লালের ভাগ্নে মোবারক হোসেন আকাশ মৌচাকের আনারকলি মার্কেটে ব্যবসা করেন। আসামি দিদারুল ইসলাম বাবু আনারকলি মার্কেটের ফুটপাত ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিল ও ময়লা পরিষ্কারের বিলের নাম করে চাঁদা তুলত। এ নিয়ে দিদারুলের সঙ্গে বিল্লালের ভাগ্নি আকাশের বিরোধ চলছিল।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আকাশের বিষয়ে দিদারুল কথা বলবে জানিয়ে বিল্লালকে আনারকলি মার্কেটের পেছনে ডেকে নেয়। দিদারুলসহ অন্য আসামিরা রাত পৌনে ৮টার দিকে বিল্লালের উপর হামলা চালায় ও মারধর করে। এক পর্যায়ে দিদারুলের নির্দেশে রিয়াজুল ছুরি দিয়ে বিল্লালের বুকে আঘাত করে। আকাশকেও মারধরা করে আহত করা হয়। আকাশের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
এরপর বিল্লালকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত পৌনে ১০ টার দিকে মারা যান বিল্লাল।