Published : 22 Jul 2026, 06:41 PM
গ্রাহকের অর্থ নিয়ে প্লট বুঝে না দেওয়া এবং সেই অর্থ বিভিন্নভাবে আত্মসাতের অভিযোগে আবাসন খাতের কোম্পানি বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের এমডিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সোমবার বনানী থানায় মানিলন্ডারিং আইনে সিআইডি মামলা করেছে বলে মঙ্গলবার পুলিশের এ ইউনিটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।
মামলায় বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজের এমডি মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী ও পরিচালক মো. মোমেনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সিআইডি বলছে, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই অর্থ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্যও মিলেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে রূপগঞ্জের ভোলাব, তরাইল, বিরাব ও মোচারতালুকসহ বিভিন্ন মৌজায় প্লট বিক্রির নামে ব্যাপক প্রচার চালায় বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ। চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তিতে অর্থ নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্লট বুঝে দেওয়া হয়নি। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর কিস্তি পরিশোধ করলেও তারা প্লট পাননি, জমা দেওয়া অর্থও ফেরত পাননি।
সিআইডির ভাষ্য, প্লটের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্রাহকদের সাব-কবলা দলিল দেওয়া হলেও তা ছিল কেবল জিম্মা বা সিকিউরিটি হিসেবে। প্রতিশ্রুত প্লট বাস্তবে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
অন্তত ৩৭ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা নেওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তারা কেউই প্লট বুঝে পাননি। তাদের অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। সেই অর্থ স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে।
৮২টি ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনার তথ্য দিয়ে সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থ বিভিন্নভাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। এ ছাড়া ওই সময়ে মোট ২ হাজার ৭১৩টি সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিল দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো গ্রাহকদের কাছে জিম্মা বা গ্যারান্টি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।