Published : 23 Feb 2026, 10:39 PM
ঢাকার পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তার বাসা থেকে এক শিশু গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে বাসার বাথরুমের দরজা ভেঙে হালিমা (১২) নামে ওই গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধারের কথা জানান নিউ মার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব।
হালিমার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে। তার বাবার নাম মৃত শাহ আলম।
ওসি বলেন, “আমরা পিলখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে ওই কর্মকর্তার বাসার বাথরুমের দরজা ভেঙে গৃহকর্মীকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাই। এরপর লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ বলছে, ঘটনার সময় বিজিবির ওই কর্মকর্তা এবং তার স্ত্রী নিজ নিজ কর্মস্থলে ছিলেন। বাসায় তাদের ১১ মাসের শিশু সন্তান আর ওই মেয়েটি ছিলেন।
পুলিশের ধারণা, দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে কোনো এক সময়ে হালিমা বাথরুমে ঢুকে আত্মহত্যা করেছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির মা পিলখানাতেই অন্য এক কর্মকর্তার বাসায় কাজ করেন। সেই সূত্রেই তাদের মেয়ের দেখভালের জন্য মাস ছয়েক আগে হালিমাকে তার বাসায় দিয়ে যান তার মা।
ঘটনার সময় তারা দুজনেই নিজ নিজ কর্মস্থলে ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে তার জন্য নিয়োজিত সহকারী (রানার) বাসায় গিয়ে তাদের শিশুকণ্যাকে মেঝেতে একা একা খেলতে দেখেন। তখন গৃহকর্মীর নাম ধরে ডাকলে কোনো সাড়া না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে শৌচাগারের দরজা লাগানো দেখতে পান।
বিজিবি কর্মকর্তার ভাষ্য, কিছু সময় পেরিয়ে গেলে শৌচাগারের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও সাড়াশব্দ না পেয়ে ওই সহকারী তাকে খবর দেন। তখন বাসায় গিয়ে তিনিও বাথরুমের দরজা ধাক্কা ধাক্কি করে কোন সাড়াশব্দ পাননি।
পরে তারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারাই পুলিশকে খবর দেয়, পুলিশ গিয়ে বাসার বাথরুমের দরজা ভেঙে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
বিজিবি কর্মকর্তা শরীফুল বলেন, “মেয়েটি সবসময় হাসিখুশি থাকত, একসঙ্গে আমরা সেহরিও করেছি। সকালে আমরা বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটি ঘুমেই ছিল, আমার মেয়েটাও তখন ঘুমে ছিল।”