Published : 28 May 2025, 08:26 PM
রাজধানীর সাতমসজিদ সড়কের মাঝখানে হঠাৎ বড় গর্ত তৈরি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টিকে ‘রহস্যজনক’ বলছিলেন অনেকে; গর্তের কারণ হিসেবে হাজির করেন নানা ব্যাখ্যা।
তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ওয়াসার পানির লাইনের লিকেজের কারণে মাটি সরে গিয়ে বিশাল গর্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে সাত মসজিদ রোডের সংকর ফুটব্রিজের কাছে ওই ঘটনার পর ১০ ঘণ্টার মত সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। রাতেই বালি ও আর ইট-খোয়া দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিশাল গর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সড়কে চলাচল করা লোকজন গর্তের কাছে ভিড় করেন। অনেকেই সেটিকে ‘সিঙ্কহোল’ বলে দাবি করেন।
বুধবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বালি ফেলে গর্ত বড়াট করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইট-খোয়া দিয়ে রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। রাত ২টার পর থেকে ওই সড়কে ফের যানবাহন চলছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, ডিপিডিসির পুরো ধানমন্ডি এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড করার প্রজেক্ট চলে। এই প্রজেক্টের আওতায় রাস্তার এক পাড় থেকে আরেক পাড়ে লাইন নিয়েছে সংকরের আগে। কোনো রাস্তা না কেটে মাটির নিচ দিয়ে ড্রিল করে করেছে। এতে ওয়াসার খাবার পানির লাইনের কোনো এক জায়গায় লিকেজ হয়েছে।

তিনি বলেন, “ওয়াসার পানি বাসায় বাসায় যায়, স্পিড অনেক বেশি থাকে। পানি বালিতে কাভার করেছে, যার ফলে ওখানে (রাস্তার নিচে) বড় ধরনের গর্ত তৈরি হয়েছে, তখন সেটা বোঝা যায়নি।
“বিকালে প্রথমে ছোট গর্ত হয়েছে, পরে বড় গর্ত হয়ে মানুষের চোখে পড়েছে। এটা রাতের বেলায় ঢাকা ওয়াসা ঠিক করেছে। পরে আমরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাটি বালু ও ইটের কণা দিয়ে ভড়াট করেছি। সপ্তাহখানেক রাখব এভাবে আরও কোনো সমস্যা হয় কিনা দেখার জন্য। পরে আমরা কার্পেটিং করে দেব।”
গর্ত ভরাটে সিটি করপোরেশনের লোকজনকে স্থানীয় লোকজনও সহায়তা করেছে।
সংকর এলাকার বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রথমে সবাই মনে করেছিল, রহস্যজনকভাবেই এই গর্ত তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে কীভাবে মূল সড়কের মাঝখানে বিরাট গর্ত তৈরি হয়ে যায়। পরে আমরাও গিয়েছি।
“আসলে প্রায় তিন-চার মাস আগে এই সড়কে ওয়াসার লাইনের কাজ করেছে। তখনকার পানির পাইপের লিকেজ হয়েছে। লিকেজের কারণে মাটি আস্তে আস্তে সরতে শুরু করে, এক পর্যায়ে ফাঁকা হয়ে গেলে প্রথমে দুই-তিন ফুট দেবে যায়। পরে আস্তে আস্তে বেশ বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।”
আমিরুল বলেন, “যেহেতু সরকারি রাস্তা, আমরা ইচ্ছে করেই এখানে কিছু করতে পারি না। যখন সিটি করপোরেশনের কয়েকজন লোক এসে কাজ শুরু করল তখন আমরা মহল্লার অনেকে তাদের সহযোগিতা করি। রাত ২টার দিকে পানির লিকেজ বন্ধ করে, একেবারে মাটি ও কনক্রিট দিয়ে ভড়াট করে যান চলাচলের জন্য উপযোগী করে দেওয়া হয়।”

ঘটনাস্থলের পাশেই চায়ের দোকানি মো. জাসিম বলেন, “বিকাল ৪টার দিকে হঠাৎ করেই রাস্তায় গর্ত তৈরি হয়। প্রথমে আশপাশ দিয়ে গাড়ি যাওয়া শুরু করে, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই গর্ত বড় হয়ে যায়। পানি পাইপে লিক করার কারণে এমন হয়েছে। আমি রাত ১০টার দিকে বাসায় চলে যাওয়ার সময়ও রাস্তা ঠিক করা হয়নি। তবে বিকাল ৪টার পরপরই এই রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
সড়কটিতে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের এএসআই মো. হাফিজ বলেন, “৪টার পরপর রাস্তায় গর্ত তৈরি হওয়ায় সংকর মোড়ের আগে থেকেই ডাইভারশন করে দেই। এই গর্তের জন্য আশেপাশের এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছিল। রাতে ঠিক করার পর আবারও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।”