Published : 04 Nov 2025, 04:07 PM
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গেল ১৪ মাসে ৪০টির মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের তথ্য এসেছে; কারা এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত?
এই প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, যারাই জড়িত থাক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসে বিভিন্ন প্রশ্নে জবাব দিচ্ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল একটি সংগঠন তাদের প্রকাশিত তথ্যে জানিয়েছে, গত ১৪ মাসে ৪০টির মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব হত্যাকাণ্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর হাত রয়েছে কি না?
জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনী বা যে কোনো বাহিনী বা যার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড হোক না কেন, প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে আইনের মাধ্যমে ফয়সালা করা হবে।”
নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকছে কি না, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা এখনই আছে। নির্বাচনের সময় বন্ধ হবে কেন? আমরা বন্ধ করছি নাকি? নির্বাচন আসুক সে সময় জিজ্ঞাস করিয়েন।”
এক প্রশ্নে জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, দেশকে নানাভাবে বিশৃঙ্খল করার জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে থেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য আসছে।
বিগত সরকারের সময় নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের কয়েকজন ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করছেন। এ ব্যাপারে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না?
জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা বলেছি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ নির্বাচনে যারাই ছিল, তাদের অধিকাংশকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করব। কিন্তু আমাদেরও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা সবাইরেতো পারবো না।
“আমরা দেখবো প্রথম যারা তিনটা নির্বাচনে জড়িত ছিলেন তাদের বাদ দিব। তারপরে দুইটার সাথে জড়িত ছিল তারা, তারপরেও যদি দেখি জনবল রয়ে গেছে তখন একটার সাথে জড়িতদের বাদ দিয়ে দিব। আমিতো নিয়োগ দিয়ে নতুন ওসি নিয়ে আসতে পারবো না।
“তারপর দেখবো, যে একটা নির্বাচনে জড়িত ছিল তার বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযোগ নেই, তাকেতো আমাদের কাজে লাগাতে হবে।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বিগত সরকারের সময় কর্মরত যেসব পুলিশ সদস্য এখন দেশের বাইরে পালিয়ে আছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে, তাদের সবাই অপরাধী, তাদের আমরা যে কোনো সময় পাইলেই আনার চেষ্টা করবো।”
কোর কমিটির বৈঠকে নমিনেশন না পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের দেশের বিভিন্নস্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে তুলে ধরেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “একটা দল তাদের পার্টির ইলেকশনে, যারা অংশগ্রহণ করবে, নমিনেশনের, ওইজন্য কিছুটা, কয়কটা জায়গায়, কিন্তু যতটা আশঙ্কা করা হয়েছিল ততটা না, কয়েকটা জায়গায় ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে। ওগুলোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।”
আগামী নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি রাউজানে অভিযান চালিয়ে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের তথ্য দেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রাউজান, ফটিকছড়ি একটু কঠিন এলাকা। আগেও ছিল, এখনও কঠিন। এসব জায়গায় অপরাধ করে অপরাধীরা পাহাড়ে চলে যায়। অন্য এলাকার মত সমতল না।”
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি কতটুকু, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বৈঠকে পুলিশ কমিশন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, তবে আল্লাহ দিলে পুলিশ কমিশন হয়ে যাবে।”
আগে কমিশন গঠন হোক তার পরে সেখানে কি আছে, সে ব্যাপারে বলা হবে, আরেক প্রশ্নে বলেন তিনি।
বিমান বন্দরের কার্গোতে আগুন লাগার পর পরে জানা গেল সেখানে সুরক্ষিত ভোল্ট ভেঙে অস্ত্র চুরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নতির কথা বলা হচ্ছে, অথচ নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি জায়গা থেকে অস্ত্র চুরি হয়ে গেল।
এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “অগ্নিকাণ্ড তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রধান আমাদের সিনিয়র সচিব (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)। তদন্তের জন্য চারটি পাঁচটি দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে, দুই-একটি দেশের বিশেষজ্ঞ এসেছেন।
“আর ওখানে যে হাতিয়ার চুরি হয়েছে, সে সম্পর্কে তদন্তের পর জানা যাবে, চুরি হয়েছে কি হয়নি। যদি চুরি হয়ে থাকে তাহলে কার মাধ্যমে হয়েছে, কে দায়ী তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি যে কয়টি হাতিয়ার চুরি হয়েছে বা আদৌ হয়েছে কিনা। তদন্তের পরে আমরা জানতে পারবো।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কোন পুলিশ সদস্য আগামী নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে নিয়ম অনুযায়ী তাকে সাথে সাথে আইনের আওতায় আনা হবে।”