Published : 03 Jul 2026, 07:15 PM
সাভার থানা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দেন বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বাহাজ উদ্দিন।
সামির সাভার থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। এলাকায় ‘ফেন্সি সামির’ নামে পরিচিত এই তরুণের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, মারামারি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক অভিযোগ আছে।
এর আগে গত ২ জুন সাভারে রিপন ঋষি নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগে সামিরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২৪ জুন সাভার থানায় আবার তার বিরুদ্ধে হয় চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলা।
এসব ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত ২৬ জুন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সাভার থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সামিরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরান ঢাকার জনসন রোড এলাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে থেকে সামিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই আশিষ কুমার দাস এ দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। সামিরের পক্ষে তার আইনজীবী মহসিন মিয়া জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তবে রোববার শুনানি করতে চান বলে তিনি আদালতকে অবহিত করেন।
আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে জামিন শুনানির দিন রেখেছেন রোববার।
মামলার বিবরণ থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, চাঁদা না পেয়ে গত ২৪ মে দুপুরে সামির তার দলবল নিয়ে রাজাসন আমতলীতে জনৈক শামীম রেজার বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা ঘর থেকে নগদ ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এরপর শামীম রেজার রিকশা গ্যারেজে হানা দিয়ে ক্যাশ বক্স থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আসামিরা আবারও ওই গ্যারেজে হানা দিয়ে আরও ৯ লাখ টাকা মূল্যের ৫টি ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে যায়।
সর্বশেষ গত ১২ জুন রাতে সামির আবার তার দলবল নিয়ে শামীম রেজার ফ্ল্যাটে ঢুকে ফের চাঁদা দাবি করে। এ সময় টাকা না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তারা শামীম রেজার খালা বৃদ্ধা সুরাইয়া বেগমকে মারধর করে এবং তার গলা থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। বাধা দেওয়ায় শামীমের খালাত বোন লাবনী বেগমের স্বামী একরামুল হককেও পিটিয়ে জখম করা হয়।
একই সময় শামীম রেজার ভাইয়ের স্ত্রীকে যৌন হয়রানি এবং তার দুই বছরের শিশু কন্যাকে আছাড় মারে।
এ ঘটনায় শামীম রেজার খালাত বোন লাবনী বেগম গত ২৪ জুন সাভার মডেল থানায় সামিরসহ ১১ জন ও নাম উল্লেখ না করে আরো ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর থেকে সামির আত্মগোপনে ছিলেন।
'বিতর্কিত কর্মকাণ্ড': সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি