Published : 01 Mar 2026, 07:55 PM
ছেচল্লিশতম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যেসব প্রার্থী ‘ক্যাডার’ পদে চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশ পাননি, তারা ‘নন ক্যাডার’ পদে নিয়োগ সুপারিশ চাইছেন।
এ দাবিতে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন তারা। পরে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৪৫৭ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারের পদে নিয়োগের সুপারিশ করে ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসি। ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর এ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল।
মানববন্ধনে এ বিসিএসের প্রার্থী ফয়সাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিজ্ঞপ্তিতে ৩ হাজার ১৪০টি ক্যাডার পদের উল্লেখ থাকলেও কোনো নন-ক্যাডার পদ রাখা হয়নি। অথচ ‘নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০২৩’ অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিতেই নন-ক্যাডার পদের বিবরণ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।
“ক্রান্তিকালীন সময়ে দ্রুত সার্কুলার দিতে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিভিন্ন দপ্তরের চাহিদাপত্র (অধিযাচন) না পাওয়ায় পিএসসি এই পদগুলো যুক্ত করতে পারেনি বলে জানিয়েছিল। রাষ্ট্রের এই অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিগত বিলম্বের দায় কেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা নেবেন?”
তিনি বলেন, “৩৩তম থেকে ৪৫তম বিসিএস পর্যন্ত প্রতিবারই বিপুল সংখ্যক প্রার্থীকে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকি পরবর্তী ৪৭তম বিসিএসেও নন-ক্যাডার পদ সংরক্ষিত আছে।
“মাঝখানে শুধুমাত্র ৪৬তম বিসিএসকে ‘বঞ্চিত’ করা সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদের 'সুযোগের সমতা' নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
সৌরভ নামের আরেক প্রার্থী বলেন, “পদ্ধতিগত বৈষম্য দূর করার জন্য নন ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০২৩-এর বিধি ৮-এ সরকারকে অসুবিধা দূর করার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই বিধি অনুযায়ী একটি বিশেষ পরিপত্র বা আদেশের মাধ্যমে ৪৬তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদ যুক্ত করা সম্ভব।
“সরকারি দপ্তরে পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও, পরীক্ষিত মেধাবীদের বাদ দিয়ে নতুন করে জনবল খোঁজা রাষ্ট্রের সময় ও অর্থের অপচয়।”
আরেক প্রার্থী রাফিদ বলেন, “বিসিএসের তিনটি ধাপ পার করা মানে আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ও শ্রম এখানে বিনিয়োগ করা। এখন যদি তুচ্ছ প্রশাসনিক অজুহাতে আমাদের নন-ক্যাডার পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে তা হবে আমাদের মেধার প্রতি চরম অবমাননা ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের নজিরবিহীন উদাহরণ। আমরা কোনো করুণা নয়, বরং আমাদের প্রাপ্য অধিকার চাই।
“বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে মেধা ও পরিশ্রম যেন উপেক্ষিত না হয়, সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের সরাসরি ও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান রোববার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগের কমিশন এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তারা ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ননক্যাডার পদ অন্তর্ভুক্ত করেছিল, কিন্তু ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে তা অন্তর্ভুক্ত করেননি।
“যেহেতু বিজ্ঞপ্তিতে ননক্যাডার পদ অন্তর্ভুক্ত ছিল না তাই বিধি অনুসারে এই বিসিএসে ক্যাডার পদে সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীদের ননক্যাডার পদে নিয়োগ সুপারিশ করার সুযোগ বর্তমান কমিশনের নেই।
“তবে সরকার যদি মনে করে তাদের ননক্যাডার পদে সুপারিশ করা যেতে পারে সে অনুযায়ী তাদের সুপারিশ করা যেতে পারে। তবে তা নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।”
২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। পরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয় ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল। এতে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬১ প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। ওই বছর ৯ মে প্রিলিমিনারি প্রকাশিত ফলে উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ৬৩৮ জন।
উত্তীর্ণ এসব প্রার্থীদের ২০২৪ সালের ২৮ অগাস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ অগাস্ট সরকার পরির্তনের পর ২৫ অগাস্ট এ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
পরে ‘বৈষম্য দূরীকরণকে’ কারণ হিসেবে দেখিয়ে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণদের সঙ্গে আরও সমসংখ্যক প্রার্থীকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পিএসসি। আগে উত্তীর্ণ ১০ হাজার ৬৩৮ জনের সঙ্গে আরও ১০ হাজার ৭৫৯ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হয়।
লিখিত পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল ৮ মে থেকে। তবে প্রার্থীদের আন্দোলনের মুখে কমিশন ২১ মে তা স্থগিত করে। পরে ২৪ জুলাই থেকে শুরু হয় এ বিসিএসের আবশ্যিক বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা, যা ৩ অগাস্ট পর্যন্ত চলে। ১০ অগাস্ট থেকে ২১ অগাস্ট পর্যন্ত চলে পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা।
এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় গত ২৭ নভেম্বর, যাতে উত্তীর্ণ হন ৪ হাজার ৪২ জন প্রার্থী৷ এক মাস পর গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে পিএসসি।