ফের ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার আক্রান্ত
হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের দুটি তেল ট্যাংকারে ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এক ভারতীয় নাবিক নিহত ও আটজন আহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলায় চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় হামলাগুলো চালানো হয়। আর ইরান হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।
সোমবার সালেম রেডিও নেটওয়ার্কের টক শো ‘হিউ হিউইট শো’ এ ট্রাম্প বলেন, “আজ রাতে ইরানে খুব জোরালোভাবে আঘাত হানা হবে আর আমরা আগামীকালও আমরা তাদের ওপর জোরালো আঘাত হানব। আর এ ক্ষেত্রে তারা কিছুই করতে পারবে না।”
এর কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রালি কমান্ড জানায়, তারা ইরানের ওপর হামলা শুরু করেছে।
এরপর হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সক্ষমতাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে শুরু করেছে।
এর কিছুক্ষণ পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালির ওমানি জলসীমা দিয়ে পার হওয়ার সময় মোম্বাসা ও আল বাহিয়াহ নামের আমিরাতের দুটি তেল ট্যাংকারে ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে এক ভারতীয় ক্রু সদস্য নিহত ও আরও আটজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় আর বাকি দুজন ইউক্রেইনীয়।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স এজেন্সি (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের কালহাত থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল উত্তরপূর্ব দিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্যাঙ্কারে অজানা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে তবে সব ক্রু নিরাপদ আছে।
ইউকেএমটিও যে হামলার কথা বলেছে সেটি আর আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জানানো ঘটনা দুটি একই কি না তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্স তা যাচাই করতে পারেনি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশানির গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি ‘দোষী’ সুপারট্যাঙ্কারে আঘাত হানা হয়েছে আর সেগুলো অকেজো হয়ে গেছে। বারবার সতর্কতা জানানো সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করায় ও নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়ায় জাহাজগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এ বিষয়ে দেওয়া বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র জাহাজগুলোকে অবৈধ পথ ব্যবহারের উস্কানি দিচ্ছে। কিন্তু আগ্রাসী শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা করলে তা ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনবে, জলপথটি ফের চালু হতে দেরি হবে আর একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দেখা দেবে।”
মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন করে ইরানের হামলা শুরুর কথা ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানায়, বন্দর শহর বন্দর আব্বাস, ইরানের কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং পারস্য উপসাগরের আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বুশেহর প্রদেশের জাম শহরের বাসিন্দারাও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, তবে সেগুলোর সুনির্দিষ্ট স্থান পরিষ্কার হয়নি। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিস্ফোরণ অব্যাহত ছিল বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। হতাহতের কোনো খবর হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা খুজেস্তান প্রদেশের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাতে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছে আর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, বুশেহর শহরেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেওয়া উদ্ধৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুভাবাপন্ন’ একটি জাহাজকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যস্থল করেছে এবং কুয়েতে মার্কিন স্থাপনা ও সরঞ্জামকে ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ইরানি গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, আইআরজিসি হরমুজের উপরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক সামরিক ঘাঁটি বাহরাইনে মঙ্গলবার ভোরে হামলা সতর্কতা জানিয়ে বাজানো সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে।
বাহরাইনের রাজার গণমাধ্যম উপদেষ্টা নাবিল আলহামের এক্স এ এক পোস্টে জানিয়েছেন, দেশটির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইরানের আকাশ হামলা প্রতিহত করেছে।
