Published : 20 May 2026, 01:47 PM
ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) বলেন, “বিদিশা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।”
বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এ মামলা করেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এব ব্যবসায়ী।
রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলে বিদিশা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মামলা সম্পর্কে আমি অবগত না। কিছু জানি না। মামলার বিষয়ে কোনো আইডিয়া নেই।"
তিনি বলেন, "বাদীকে চিনি না। আমার বিরুদ্ধে মামলা হলে তো সমন পাব। কোনো সমন পাইনি।”
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বিদিশা বলেন, “সে অনেক আগে থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তার কর্মচারী দিয়ে মামলাটি করিয়ে গোপন রেখেছে। আর আমি ফ্ল্যাট বিক্রি করলে কেন বুঝিয়ে দেব না। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।"
তিনি বলেন, "মামলার রায়ে সাজা হয়েছে। আমি আদালতে যাব জামিন নিতে।''
বিদিশার অভিযোগের বিষয়ে এইচ এম গোলাম রেজার বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোক মারফৎ তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলায় বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।
বাদীর অভিযোগ, বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি। বরং ‘সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি’ দেন।