Published : 04 Jul 2023, 08:47 PM
বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি প্রত্যাহার চেয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বিবাদী করে মামলা দায়েরকারী এবং তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
মিশিগানের ডেট্রয়েট ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে গত ২৬ জুন জো বাইডেনসহ তিনজনকে বিবাদী করে একটি মামলা করেন তিনজন।
এ মামলা নিয়ে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মোমেন বলেন, “আমি এটা জানি না, ওদেরকে জিজ্ঞেস করেন। আমার কোনো ধারণা নাই।
“এটা হয়ত কিছু বাহবা পাওয়ার জন্য, মিডিয়া বাহবা পাওয়ার জন্য এসব করেছে হয়ত কেউ। মনে করে যে এটা করলে তার বেশ বাহবা মিলবে।”
“মূল উদ্দেশ্য কী, আমরা জানি না। এসব আমাদের কিছু জানা নাই,” বলেন তিনি।
মামলাটি মিশিগানের আদালতে দায়েরের খবরটি ফেইসবুক পোস্টে দেন এর অন্যতম বাদী রাব্বী আলম। যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের পরিচয় দেন তিনি।
ওই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘অসাংবিধানিক ও অযৌক্তিকভাবে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা, সামাজিক অবস্থান, সম্মান বিনষ্ট করা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি নথিভুক্ত হলেও বিচারিক পর্যায়ে যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী একজন সাংবাদিক জানান, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে অনেকের নামে অনেক মামলা করেছিলেন রাব্বী আলম। ওইসব মামলায় কোনো ফল আসার খবর পাওয়া যায়নি।
মামলাকারী নিজেকে আওয়ামী সমর্থক হিসাবে পরিচয় দিচ্ছেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তা জানান হলে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সত্যি সত্যি? না নিজে নিজে আওয়ামী লীগ?
“ইদানিং আওয়ামী লীগ সরকারে থাকায় বহুলোক, যারা আগে জামাত করত, যারা আগে উল্টা দল করত, তারা এখন নিজেদের বলে বেড়ায় যে, তারা আওয়ামী লীগের লোক। আর হয়ত, আওয়ামী লীগের নেতার সাথে একটা ছবি তুলে ফেলেছে আর ওই ছবি দিয়ে বলবে আমি আওয়ামী লীগ।”
“এগুলো কিছু স্বার্থান্বেষী লোক, সুবিধাবাদী লোক,” বলেন যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু দিন কাটিয়ে আসা মোমেন।

রোহিঙ্গা ‘গণহত্যার’ বিচার দ্রুত করুন, আইসিসি কৌঁসুলিকে মোমেন
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর চালানো গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) চলমান মামলা দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।
মঙ্গলবার ঢাকায় আইসিসি কৌঁসুলি করিম এ এ খানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
মোমেন বলেন, “আমরা চাই এই কেইসটা যেন দীর্ঘায়িত না হয়। এই কেইসটা যত তাড়াতাড়ি শেষ হয়, ততই মানুষের মঙ্গল হবে, রোহিঙ্গাদের মঙ্গল হবে।
“সুতরাং, মামলাটি যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে আপনাদের প্রচেষ্টা নেওয়া উচিৎ। কারণ, বিচারে দেরি করা মানে বিচার থেকে বঞ্চিত করা। তো, আমরা এটা উনাকে বলেছি।”
রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে ১২ লাখের মতো রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে।
মিয়ানমারের বাহিনীর ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। রোহিঙ্গাদের উপর চালানো ওই নির্যাতন ও নিপীড়নকে ইতোমধ্যে ‘জেনোসাইড’ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
হেগভিত্তিক আইসিসির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো নির্যাতনকে ব্যাপ্তি নিয়ে তদন্ত করছে আইসিসি প্রসিকিউশন বিভাগ।
রোহিঙ্গার উপর গণহত্যার অভিযোগের বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান কাজের অংশ হিসাবে মঙ্গলবার চারদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন করিম খান।
সফরের প্রথমদিন দুপুরের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এই আইনজীবী।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি তাদের উপর হওয়া নির্যাতন-নিপীড়নের বিচারের উদ্যোগকেও স্বাগত জানানোর কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।
তিনি বলেন, “যারা বলপ্রয়োগ ও নির্যাতন করেছে, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনলে পরে হয়ত আগামীতে এগুলো আর হবে না। সেজন্য আমরা আপনাকে স্বাগত জানাই।”
্আইসিসি কৌঁসুলি বলেছেন, যারা জেনোসাইডে জড়িত, তাদেরকে বিচার ও জবাবদিহির আওতায় আনতে চান তারা।
উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করে আইসিসি তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যেখানে অনেক রোহিঙ্গার সঙ্গে আলাপ করছেন এবং তারা একটা লজিস্টিকস সাপোর্ট চান। আমরা বলেছি, আমরা দেখব। আমরা তো আর সিদ্ধান্ত নিই না, এটা আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বিষয়। আমরা অন্যদের সাথে আলাপ করে আপনাদের জানাব।”
কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের পাশাপাশি কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গেও আইসিসি কৌঁসুলি আলোচনা করবেন।
আইসিসির কৌঁসুলি করিম খান বাংলাদেশের কাছে ‘লজিস্টিকস সাপোর্ট’ চেয়েছেন জানিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, “উনি চাচ্ছেন যে, আমরা যেগুলো তথ্য সংগ্রহ করেছি, রোহিঙ্গাদের নির্যাতন নিয়ে, ওগুলো যদি আমরা উনাদের সাথে শেয়ার করি। এগুলো না দেওয়ার কোনো কারণ নাই।”