Published : 18 Apr 2026, 01:45 PM
বুথ ও কেন্দ্রের সামনে ভোটার ছাড়াও বহিরাগতদের অবস্থান, নির্বাচনের নিয়ম ভেঙে প্রার্থীদের প্রচারণা এবং ক্লোজড সার্কিট ক্যামরার ব্যবস্থা না করা-এ ধরনের অনিয়ম ও বিতর্কের মধ্যে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে।
শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পরিচালনা পর্ষদের ২০৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিন সকাল ১০টা থেকে ভোটগ্রহণ চলার কথা থাকলেও শুরু হয় ৪০ মিনিট পর অর্থাৎ ১০টা ৪০ মিনিটে। ভোট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বিকাল ৪টায়। দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রথম প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টায় সাড়ে তিনশোর বেশি ভোট পড়েছে।
সকালে বুথ ও কেন্দ্রের হলরুমের আশেপাশে সিসি ক্যামেরা না বসানোকে কেন্দ্র করে তর্ক হতে দেখা যায়। এরপর ভোটগ্রহণ শুরু হলেও প্যানেলের প্রার্থীদের নিয়মভঙ্গ করে বুথের সামনে জড়ো হয়ে প্রচারণা চালাতেও দেখা গেছে।
এ নিয়ে বারবার মাইকে প্রার্থীদের অনুরোধ করে বলতে শোনা যায়, "’হাত জোড় করে' অনুরোধ করছি, আপনারা ভোটারদের বিব্রত করা থেকে বিরত থাকুন।"
ভোটার ছাড়া অন্যদের বুথের সামনে থেকে সরে যাওয়া এবং ভোটারদের 'সুশৃঙ্খলভাবে' ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিয়ম অনুযায়ী যে বলরুমে ভোটগ্রহণ চলছে তার একপাশে ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ঢুকতে একটা ব্যারিকেড রাখা হয়েছে; যেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দায়িত্ব হল ভোটার শনাক্ত করে তাদের বুথ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া।
তবে প্রার্থীরা আসলে কখনো তাদের সঙ্গে থাকা লোকদের চাপে এর ব্যত্যয় ঘটতে দেখা যায় এবং কয়েকবার হট্টগোল হয়েছে সেখানে।

ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা না থাকাসহ অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান জহিরুল হক ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা তো ইনডোর ভিনাইল ক্যামেরা লাগিয়েছি। এখন সিসি ক্যামেরা আসতেছে, শীঘ্রই সিসি ক্যামেরাও লাগানো হবে।
"ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের প্যানেল লিডার যারা আছে তারা ভিতরে বসে পর্যবেক্ষণ করেন ভোট সঠিকভাবে হচ্ছে কি না।"
ভোটের পরিবেশটা এখন পর্যন্ত কেমন দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "অনেকে আমাকে সাহায্য করতেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সুন্দরভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারিনি। আমাকে কিছু কিছু লোক অসহযোগিতা করছে।
"এটার জন্য দায়ী হচ্ছে প্যানেল লিডাররা, যারা তাদের সমর্থকদের ও গুণ্ডাদের নিয়ে এসে এখানে ঝামেলা করছে।"
দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়া নিয়ে বলেন, "এটার কারণ হচ্ছে সিসি ক্যামেরা নিয়ে একটা তর্ক-বিতর্ক চলছিল। উনারা বলছেন সিসি ক্যামেরা না আসা পর্যন্ত ভোট শুরু করা যাবে না। আমরা ইনডোর ক্যামেরা লাগিয়েছি তারপরও উনারা সিসি ক্যামেরার দাবি করছেন।
"পরবর্তীতে আমরা বললাম ঠিক আছে, আপনারা দলনেতারা ভিতরে বসেন এবং পর্যবেক্ষণ করেন যতক্ষণ সিসি ক্যামেরা না লাগে ততক্ষণ আপনারা উপস্থিত থাকেন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হোক, তারপর সিসি ক্যামেরা লাগলে আপনারা দেখে নিয়েন।"
তবে দুপুর ১টা পর্যন্তও সেখানে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়নি।
এবারের নির্বাচনে ২৯টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭৭ জন প্রার্থী রয়েছে। নির্বাচনে মোট ভোটার ৬৭৪ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৬১৩ জন এবং চট্টগ্রামের ৬১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এবার প্রথমবারের মতো সভাপতি, ছয় সহ-সভাপতি এবং ১৯ পরিচালক পদে সরাসরি ভোটগ্রহণ হচ্ছে।